বাস্তু মতে ময়ূরের পালক (ময়ূরের পেখম) অত্যন্ত শুভ এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ধারণায় এটি ঘরের নেগেটিভ শক্তি দূর করে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে সাহায্য করে।
প্রথমত, ময়ূরের পালককে অশুভ শক্তি নাশক হিসেবে ধরা হয়। অনেকের বিশ্বাস, ঘরের ভেতরে ময়ূরের পালক রাখলে তা খারাপ দৃষ্টি বা নেতিবাচক প্রভাব দূর করে। বিশেষ করে বাসার প্রবেশদ্বার বা পূজার ঘরে এটি রাখলে পরিবেশ পবিত্র থাকে বলে মনে করা হয়।
দ্বিতীয়ত, বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী ময়ূরের পালক ঘরে সৌভাগ্য ও আর্থিক উন্নতি বয়ে আনে। এটি ধন-সম্পদ বৃদ্ধি এবং পারিবারিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক বলে অনেকে মনে করেন। ব্যবসার জায়গায় বা টাকার আলমারিতে ময়ূরের পালক রাখা হলে লাভ বৃদ্ধি পেতে পারে-এমন বিশ্বাসও প্রচলিত।
এছাড়া, ময়ূরের পালক মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে ধরা হয়। পড়াশোনার টেবিলে বা কর্মস্থলে এটি রাখলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হয় বলে মনে করা হয়। তাই ছাত্রছাত্রীদের জন্যও এটি শুভ বলে বিবেচিত।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ময়ূরের পালকের গুরুত্ব রয়েছে। হিন্দু পুরাণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুকুটে ময়ূরের পালক দেখা যায়, যা এই পালকের পবিত্রতা ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে এসব বিশ্বাস মূলত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও অনেক মানুষ এটি মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচকতার জন্য ব্যবহার করেন।
বাস্তু মতে ময়ূরের পালক শুভ, যা ঘরে ইতিবাচক শক্তি, সৌভাগ্য এবং শান্তি আনতে প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত হয়।