আজকের ...">
আজকের ভারতবর্ষ নামটি প্রাচীন বৈদিক, পৌরাণিক, বৌদ্ধ ও জৈন শাস্ত্র অনুসারে জম্বুদ্বীপ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমান ভারত নামটি প্রচলিত হওয়ার বহু আগে, এটি প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বতত্ত্ব বা ভৌগোলিক ধারণার অংশ ছিল, যেখানে পৃথিবীকে কয়েকটি মহাদেশ বা দ্বীপে বিভক্ত করা হয়েছিল।
প্রাচীন বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু শাস্ত্র মতে, পৃথিবীকে কয়েকটি দ্বীপে বিভক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো জম্বুদ্বীপ। 'জম্বু' কথার অর্থ জাম গাছ এবং 'দ্বীপ' কথার অর্থ মহাদেশ বা ভূমি। কথিত আছে এই দ্বীপের মাঝখানে 'প্রচুর জাম গাছ ছিল। তাই একে জম্বুদ্বীপ বলা হতো। মৌর্য সম্রাট অশোকের আমলে বৌদ্ধ ও হিন্দু শাস্ত্রে শিলালিপিতেও এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা নির্দেশ করে যে তৎকালীন সময়ে এই বিশাল ভূখণ্ডটি জম্বুদ্বীপ নামেই পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে, রাজা ভরত-এর কাহিনী এবং বৈদিক প্রভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে এই বিশাল অঞ্চলের দক্ষিণ অংশকে 'ভারতবর্ষ' বা 'ভারতখণ্ড' হিসেবে অভিহিত করা শুরু হয়। সংস্কৃত 'বর্ষ' শব্দের অর্থ হলো এলাকা বা মহাদেশ। অর্থাৎ 'ভারতবর্ষ' বলতে বোঝায় ভরত বংশের শাসিত ভূখণ্ড।
প্রাচীন পৌরাণিক গ্রন্থ অনুসারে, জম্বুদ্বীপের দক্ষিণ দিকে এবং হিমালয়ের উত্তর দিকে যে বিশাল ভূমিখণ্ড ছিল, তাই ছিল মূলত জম্বুদ্বীপের কেন্দ্র। জম্বুদ্বীপ শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক স্থান ছিল না, বরং এটি একটি সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক একক হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
বিষ্ণু পুরাণের একটি শ্লোকে ভারতবর্ষের সীমানা নির্ধারণ করে বলা হয়েছে- "উত্তরং যৎ সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্। বর্ষং তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ।" অর্থাৎ, সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে যে ভূখণ্ড অবস্থিত, তারই নাম ভারত এবং এর অধিবাসীরা হলো ভারতীয়।
সময়ের বিবর্তনে পারস্যবাসীরা 'সিন্ধু' নদকে 'হিন্দু' এবং গ্রিকরা 'ইন্দোস' বলতে শুরু করে, যা থেকে পরবর্তীকালে 'ইন্ডিয়া' ও 'হিন্দুস্তান' নামের উৎপত্তি হয়। তবে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে 'ভারত' এবং 'জম্বুদ্বীপ' নাম দুটি আজও ভারতের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে টিকে আছে।