পৃথিবীর বহু প্রাণীর মতো পেঁচাও প্রকৃতির একটি রহস্যময় প্রাণী। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে তাদের সক্রিয়তা মানুষের কৌতূহল জাগায়। সাধারণভাবে পেঁচাকে রাতজাগা বা নিশাচর পাখি বলা হয়। অর্থাৎ তারা দিনে বিশ্রাম নেয় এবং রাতে শিকার ও অন্যান্য কাজ করে। কিন্তু কেন পেঁচা রাতে জেগে থাকে, এর পেছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
প্রথমত, পেঁচার শরীরের গঠনই এমনভাবে তৈরি যে তারা রাতে শিকার করতে খুব দক্ষ। তাদের চোখ বড় এবং বিশেষভাবে সংবেদনশীল, যা খুব কম আলোতেও স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করে। মানুষের চোখ যেখানে অন্ধকারে ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, সেখানে পেঁচা সহজেই চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে রাতের অন্ধকার তাদের জন্য কোনো বাধা নয়।
দ্বিতীয়ত, পেঁচার শ্রবণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। তারা খুব সূক্ষ্ম শব্দও দূর থেকে শুনতে পারে। অনেক পেঁচার কানের অবস্থান অসমান হওয়ায় তারা শব্দের দিক ও দূরত্ব খুব নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে। অন্ধকারে যখন ইঁদুর বা ছোট প্রাণী পাতার নিচে নড়াচড়া করে, তখন পেঁচা সেই শব্দ শুনে সহজেই শিকার ধরে ফেলতে পারে।
তৃতীয়ত, রাতে শিকার করার আরেকটি সুবিধা হলো প্রতিযোগিতা কম থাকা। দিনের বেলায় অনেক পাখি ও শিকারি প্রাণী সক্রিয় থাকে। কিন্তু রাতে তাদের বেশিরভাগই বিশ্রামে থাকে। ফলে পেঁচা তুলনামূলকভাবে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।
এছাড়া পেঁচার ডানার গঠন এমন যে তারা খুব নিঃশব্দে উড়তে পারে। এই নিঃশব্দ উড়ান তাদের শিকার ধরতে আরও সুবিধা দেয়, কারণ শিকার অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে পেঁচা কাছে এসে গেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পেঁচার দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি, ডানার গঠন এবং খাদ্য সংগ্রহের কৌশল সবকিছুই তাদের রাতের জীবনের সাথে মানানসই। তাই পেঁচা রাতে জেগে থাকে এবং অন্ধকারেই তাদের আসল শক্তি প্রকাশ পায়।