বাংলা সমাজসহ ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক সংস্কৃতিতে একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে ,পথে যদি বিড়াল বিশেষ করে কালো বিড়াল, রাস্তা কেটে যায় তবে সেটি অশুভ লক্ষণ। এই ধারণা বহু পুরনো এবং মূলত লোকবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত।
প্রাচীনকালে মানুষ প্রকৃতির নানা ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারত না। তাই অনেক সময় দৈনন্দিন ঘটনার সঙ্গে শুভ-অশুভের সম্পর্ক তৈরি করা হতো। বিড়াল একটি নিশাচর প্রাণী; তারা সাধারণত রাতে সক্রিয় থাকে এবং তাদের চোখ অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাচীন সমাজে অনেকেই বিড়ালকে রহস্যময় বা অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে যুক্ত মনে করত।
মধ্যযুগীয় ইউরোপে কালো বিড়ালকে ডাইনি বা জাদুবিদ্যার সঙ্গেও যুক্ত করা হতো। সেই সময়ে বিশ্বাস করা হতো, ডাইনিরা নাকি কালো বিড়ালের রূপ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই ধরনের ধারণা ধীরে ধীরে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো বিড়ালকে অশুভ বলে মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে এই বিশ্বাস ভারতীয় সমাজেও লোককথা ও কুসংস্কারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বাস্তবে অবশ্য পথের মধ্যে বিড়াল চলে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের ভাগ্য বা ভবিষ্যতের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। এটি শুধুমাত্র একটি কাকতালীয় ঘটনা। কিন্তু যখন কোনো খারাপ ঘটনা বিড়াল রাস্তা কাটার পরে ঘটে, তখন মানুষ সেই ঘটনাকে মনে রাখে এবং বিশ্বাসটি আরও শক্তিশালী হয়। ভালো কিছু ঘটলে সাধারণত মানুষ সেটি মনে রাখে না।
আজকের বৈজ্ঞানিক যুগে এই ধরনের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বিড়াল একটি সাধারণ প্রাণী, যারা নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। তাদের রাস্তা পার হওয়া মানুষের ভাগ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তাই যুক্তিবাদী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলাই এই ধরনের ভুল ধারণা দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায়।