দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, "সুপ্রিম কোর্ট আমাকে নির্বাচনের প্রচারের জন্য ২১ দিন সময় দিয়েছিল। রবিবার আমাকে আবার তিহার জেলে ফিরে যেতে হবে। দেশকে স্বৈরাচারিতার হাত থেকে বাঁচানোর জন...
দিল্লির ভোটপর্ব শেষ, সেরে ফেলেছেন প্রচারও। এবার তবে জেলে ফেরার পালা আবগারী দুর্নীতি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। কিন্তু দোসরা জুন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কি উদ্বিগ্ন কেজরিওয়াল? কারণ অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বাড়াতে দৌড়ঝাঁপ করা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখন চাইছেন স্থায়ী জামিন। সেই আর্জি নিয়ে রউস অ্যাভেনিউ কোর্টের বিচারক কাবেরী বাবেজার এজলাসে আবেদন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। শনিবার পয়লা জুনে চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। যদিও কেজরিওয়ালের আবেদনের বিরোধিতায় সরব ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনজীবী এসভি রাজুর সওয়াল শারীরিক অসুস্থতায় ভোটপ্রচার থেকে সরে আসেননি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। দিব্যি তিন প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্থায়ী জামিন কিংবা অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বাড়ানো যুক্তিযুক্ত নয়। এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ২১ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পয়লা জুন শেষ কেজরিওয়ালের। দোসরা জুন তাঁকে তিহার জেলে ফিরতেই হবে, স্পষ্ট করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। যদিও এই জামিনের বিরোধিতায় প্রথম থেকেই সক্রিয় থেকেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি। তবে ১০-ই মে সেই আপত্তি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ভোটপ্রচারের অধিকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রয়েছে। ২১ দিন জেল না খাটলে খুব একটা অসুবিধা হবে না। আজ, শুক্রবার তিনি দিল্লিবাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাঁর গলায় শোনা যায় তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথা।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, "সুপ্রিম কোর্ট আমাকে নির্বাচনের প্রচারের জন্য ২১ দিন সময় দিয়েছিল। রবিবার আমাকে আবার তিহার জেলে ফিরে যেতে হবে। দেশকে স্বৈরাচারিতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কারাগারে যাচ্ছি। এখানেই আমার গর্ব। আমাকে নানাভাবে আটাকানোর, চুপ করানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। আমি যখন জেলে ছিলাম তখন তারা আমার ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ২০ বছর ধরে সুগার রয়েছে। ১০ বছর ধরে টানা প্রত্যকেদিন আমার ইনসুলিন চলেছে। বেশ কয়েকদিন জেলে সেই ইনসুলিন বন্ধ রেখেছিল। ফলে আমার সুগার হাই হয়ে গিয়েছিল। সাত কেজি ওজন কমে গিয়েছে। জেল থেকে বেরোনোর পরও কিছুতেই ওজন বাড়ছিল না। চিকিৎসকেরা গুরুতর রোগের আশঙ্কা প্রকাশ করে অনেকগুলি টেস্ট করানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই সুযোগ দেননি।"
এভাবে অত্যাচার করে তাঁকে দমানো যাবে না বলে গর্জে ওঠেন। জেলে থেকেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন," আমি যেখানেই থাকি, ভিতরে বা বাইরে, আমি আপনার বিনামূল্যের বিদ্যুৎ, মহল্লা ক্লিনিক, হাসপাতাল, বিনামূল্যের ওষুধ, চিকিৎসা, ২৪ -ঘণ্টা বিদ্যুৎ সব পরিষেবা চলবে। আর ফিরে আসার পর প্রতি মাসে প্রত্যেক মা বোনকে ১০০০ টাকা দেওয়া শুরু করব।" নিজের পরিবারকে নিয়েও চিন্তা প্রকাশ করেন ভিডিওর মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, দেশে যেদিন সপ্তম তথা শেষ দফার ভোট, সেদিন আপ আহ্বায়কের ভাগ্য লিখবে কি আদালত, নাকি রবিবারই তাঁর তিহার যাত্রা নিশ্চিত। নজর সেদিকেই।