বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে এবার রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতিশ। বৃহস্পতি সকালে যাবতীয় গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে নিজেই সে কথা জানালেন তিনি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ব্যাখ্যা করেন নীতিশ...
বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে এবার রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতিশ। বৃহস্পতি সকালে যাবতীয় গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে নিজেই সে কথা জানালেন তিনি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ব্যাখ্যা করেন নীতিশ। জানান, তাঁর বিহার সংসদের দুই কক্ষেরই সদস্য হওয়ার বাসনা ছিল তাঁর। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীত্ব ছেড়ে এবার 'শখ' পূরণ করার কথা ভেবেছেন জেডিইউ সুপ্রিমো।
বুধবার বেলা থেকেই আচমকা নীতীশের মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিল্লির রাজনীতিতে মন দিতে রাজ্যসভায় যোগ দিতে চান তিনি। পরিবর্তে তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রে ধরেই আজ সকালে একটি পোস্ট করে নীতিশ লেখেন, 'প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন, সমর্থন জানিয়েছেন, আর সেই ক্ষমতাতে ভর করেই আমরা বিহারের জন্য কাজ করে গিয়েছি। কিন্তু সংসদীয় জীবনের শুরু থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল বিহার বিধানসভা এবং পার্লামেন্টের, দুই কক্ষের সদস্য হব। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই এবার রাজ্যসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চলেছি আমি।'
বিহারে ৫ আসনের জন্য রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আজই অর্থাৎ ৫ মার্চ। আর আজই মনোনয়ন জমা দেবেন নীতিশ। এরপর আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন হবে। ফলে বিহার যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে তা একপ্রকার চূড়ান্ত। তবে নীতীশের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ তাঁর দলের কর্মী সমর্থকরা। আজ সকালে পটনায় জেডিইউ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এমনকি ভাঙচুর করা হয় বলেও খবর।
তবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর 'খালি' পদ কে পূরণ করবে, তাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী পদ পাওয়ার লাইনে অনেকেই রয়েছেন। তবে জেডিইউ থেকে নাকি বিজেপির তরফে সেই মুখ বাছা হবে তা এখনও জানা যায়নি। এর মধ্যে জেডিইউয়ের শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লাল্লান সিং ইতিমধ্যেই পাটনা থেকে দিল্লিতে উড়ে গিয়েছেন। সুতরাং তাঁর নাম নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে দীর্ঘদিন ধরেই নজর রয়েছে বিজেপির। তাহলে কী গেরুয়া শিবির থেকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়েও ঘনাচ্ছে রহস্য।