চড়চড়িয়ে বেড়েছে চিনির দাম। এক কাপ চায়ে এখন এক চামচ চিনি মেশাতে গেলে দশবার ভাবতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের। এই পরিস্থিতিতে চিনির কালোবাজারি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সোমবার দেশের বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রকে...
চড়চড়িয়ে বেড়েছে চিনির দাম। এক কাপ চায়ে এখন এক চামচ চিনি মেশাতে গেলে দশবার ভাবতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের। এই পরিস্থিতিতে চিনির কালোবাজারি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সোমবার দেশের বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়েছে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা চিনি দু’মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত করে খোলা বাজারে বিক্রি করতে হবে। এর ফলে চিনির বাজার দর কিছুটা হলেও সস্তা হবে বলে আশা রাখছে অনেকে।
সম্প্রতি দেশ জুড়ে একলাফে প্রায় ৪০ শতাংশ দাম বেড়়েছে চিনির। নেপথ্যে অতি বৃষ্টির কারণে আখচাষে ক্ষতি, জোগানের তুলনায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আখচাষের মরসুমের কথা মাথায় রেখে সাধারণত ১ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কে চিনি উৎপাদনের অর্থবর্ষ গণনা করা হয়। বর্তমান চিনি অর্থবর্ষের গোড়ায় মনে করা হয়েছিল উৎপাদন বাড়বে। বণিকসংস্থা 'ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো এনার্জি ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশন' প্রাথমিক ভাবে মনে করেছিল, আগের অর্থবর্ষের তুলনায় চিনির উৎপাদন ১৮.৩ শতাংশ বাড়বে।
কিন্তু সেই হিসাব বদলে যায় মে মাস থেকেই। সরকার জানিয়ে দেয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্য দেশে চিনি রফতানি করা যাবে না। জুলাই মাসে সরকার চিনিকলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরও আঁটোসাঁটো করে। এরপর অগাস্টের শেষে চিনি বিক্রির মাসিক পরিমাণ ২২.৫ লক্ষ টনে বেঁধে দেয় কেন্দ্র।
এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই জুড়ে গিয়েছে ইথানল প্রসঙ্গ। ইরান এবং রাশিয়ার যুদ্ধের আবহে পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার জেরে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে এই ইথানল তৈরিতেও প্রয়োজন হয় চিনির। চিনি ব্যবসায়ীদের একাংশের হিসাব, চলতি বছরে ৩২ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি গিয়েছে ইথানল তৈরি করার জন্য। বিরোধীদের অভিযোগ, পেট্রলে ইথানল মেশাতে গিয়ে দেশের খাদ্যসুরক্ষার সঙ্গে আপস করছে কেন্দ্র। যদিও কেন্দ্রের দাবি, চিনির দাম বাড়ার সঙ্গে ই-২০ পেট্রল তৈরির কোনও সম্পর্ক নেই।