ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান (SIR)-এর পক্ষে ও বিপক্ষে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জোরদার সওয়াল জবাব চলবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে এদিন ...
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান (SIR)-এর পক্ষে ও বিপক্ষে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জোরদার সওয়াল জবাব চলবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে এদিন কোনও পক্ষই অপরপক্ষকে সূচ্যগ্র মেদিনী ছেড়ে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে, আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, স্যর(SIR)-এর সপক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে, ৪ আধিকারিককে সাসপেন্ড না-করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের টাটকা দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারেন কমিশনের কৌঁসুলিরা। আর, সেই সওয়ালের এক ঢিলেই বিহারের পর বাংলায় স্যর-এর পথ প্রশস্ত করা হবে।
ভোটমুখী বিহারে নিবিড় সংশোধনী অভিযান চালিয়ে ৬৫ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়েছে কমিশন। ওই সংশোধনী বা স্যর (SIR)-এর বিরোধিতা করে সংসদের বাদল অধিবেশন পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বিরোধী পক্ষের ৩০০ জন সাংসদ। দিল্লির নির্বাচন সদন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিসের সঙ্গে সাংসদদের তুমুল ধস্তাধস্তির সাক্ষী থেকেছে রাজধানীর রাজনৈতিক মহল। এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালতে ফের স্যর (SIR) মামলার শুনানি। প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার নিবিড় অভিযানের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে মূল মামলাটি করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR)। যাদের মামলার ভিত্তিতে ইলেকটোরাল বন্ডে কোন দল কত অর্থ পেয়েছে কার থেকে, তা প্রকাশ্যে আসে। ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় স্যর মামলার শুনানি চলে। এবং, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে দিল্লির নির্বাচন সদন জানায়, নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি হিসেবে আধার-ভোটার-রেশন কার্ডকে গণ্য করা হবে না। সম্প্রতি আরও এক কদম এগিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আরও একটি হলফনামা দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিহারে বাদ-যাওয়া ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম দিয়ে আলাদা করে তালিকা প্রকাশ করতে বাধ্য নয় কমিশন। এমনকি, কী কারণে বাদ পড়লেন ওই ভোটাররা, তার ব্যাখ্যা দিতেও কমিশনের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের উপনির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার, কমিশনের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধীকরণ বিধিকে ঢাল করেন। এদিকে, গত-শুনানিতে কমিশনের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে: গণহারে ভোটাররা বাদ পড়লে আদালত কিন্তু হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না।
এই তেতে-যাওয়া আবহাওয়াতেই ফের সুপ্রিম-শুনানি। আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করতে, এই নিবিড় সংশোধনী কতটা প্রয়োজন, তার দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দৃষ্টান্ত টেনে আনতে পারে কমিশনের কৌঁসুলিরা। বাংলায়, ভুয়ো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ডব্লুবিসিএস-সহ ৪ জন সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের নামে এফআইআর করা নির্দেশ দেয় কমিশন। প্রকাশ্য সভা থেকে, কার্যত ওই নির্দেশ অমান্য করার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা-ই নয়। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ওই ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না নবান্নর তরফে। শুধু, নাম-কে-ওয়াস্তে কয়েকজনকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় মাত্র। মনে করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে, কমিশন যদি তার সংবিধান-প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না-পারে, তাহলে অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠবে বলে দাবি করা হবে। আর, নবান্নর ভূমিকা নিয়ে টাটকা দৃষ্টান্ত তুলে ধরে স্যর-এর সপক্ষে জোর সওয়াল করবে কমিশন। আর, সেই সওয়ালের জেরেই শেষ অবধি বাংলায় স্যর চালু করার পথ প্রশস্ত করা হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।