সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। যমুনার জলে আপের ভরাডুবি তো হয়েছেই, নিজেও হেরেছেন আম আদমী পার্টির সুপ্রিমো। এবার তাঁকে আরওও অস্বস্তিতে ফেলতে একদা তাঁর সরকারি বাসভবন শিশমহল নিয়ে তদন্তের ...
সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। যমুনার জলে আপের ভরাডুবি তো হয়েছেই, নিজেও হেরেছেন আম আদমী পার্টির সুপ্রিমো। এবার তাঁকে আরওও অস্বস্তিতে ফেলতে একদা তাঁর সরকারি বাসভবন শিশমহল নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিল কেন্দ্র। দিল্লির ৬ নম্বর ফ্ল্যাগশিপ রোডের এই বাংলো সংস্কারে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা এবার তদন্ত করে দেখবে কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর বা সিপিডব্লিউডি। ৩ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্টও দিতে বলা হয়েছে সিপিডব্লিউডিকে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে ওই বাড়িতেই থাকতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজডিওয়াল। ২০২৪ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবার পর অবশ্য ৬ নম্বর ফ্ল্যাগশিপ রোডের ওই বাংলোটি খালি করে দেন কেজরিওয়াল। কিন্তু ততদিনে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বাসভবন সংস্কারের দুর্নীতির কালি লেগে গেছে তাঁর গায়ে। বিজেপি সহ বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংস্কারের কাজে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি হয়েছে, এবং দুর্নীতি যুক্ত রয়েছেন খোদ দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং। ৬ নম্বর ফ্ল্যাগশিপ রোডের এই বাংলোটিকে শিশমহল নাম দিয়ে জোরদার প্রচার চালায় বিজেপি। ভোটের ফলে দেখা যায় তাঁদের এই প্রচারকে মান্যতা দিয়েছে দিল্লিবাসী। মাত্র ২২টি আসনে জয় পায় আম আদমী পার্টি। সেখানে ২৭ বছর পর ৪৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করে পদ্ম শিবির।
উল্লেখ্য পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা আগেই বাংলোটি পরিদর্শন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক একটি রিপোর্টও জমা দেন তাঁরা। আর তারপরই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। প্রসঙ্গত ৬ নম্বর ফ্ল্যাগশিপ রোডের ওই বিতর্কিত বাংলোটি ৮ একর জমির উপর বিস্তৃত। গত সোমবার দিল্লির বিজেপি প্রধান বীরেন্দ্র সচদেবা লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনাকে চিঠি দিয়ে জানান চারটি জমি বেআইনি ভাবে আত্মসাৎ করে নিজের সরকারি বাসভবনটি সংস্কার এবং সম্প্রসারণ করেছেন কেজরিওয়াল। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের ওই সরকারি বাসভবনে থাকবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। সবমিলিয়ে কেজরিওয়ালের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপি।