নেপালের প্রতিচ্ছবি এবার উত্তরাখণ্ডে। টানা বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত রাজ্যের বিস্তীর্ন এলাকা। দোসর হয়েছে ধস। সবমিলিয়ে কার্যত থমকে জনজীবন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে মৃ...
নেপালের প্রতিচ্ছবি এবার উত্তরাখণ্ডে। টানা বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত রাজ্যের বিস্তীর্ন এলাকা। দোসর হয়েছে ধস। সবমিলিয়ে কার্যত থমকে জনজীবন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। ধস নেমে বন্ধ হয়েছে বহু রাস্তা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ। এমতাবস্থায় অলমোড়া, বাগেশ্বর, টিহরী, নৈনীতাল, উধম সিংহ নগর এবং পৌড়ীতে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, টানা বৃষ্টি ও ধসের জেরে ১৭২টি রাস্তা বন্ধ বন্ধ হয়েছে সেখানে। তার মধ্যে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরে দুটি হাইওয়েও রয়েছে। অন্যদিকে বিপদ সীমার উপর থেকে বইতে শুরু করেছে জল। ইতিমধ্যেই গোলা নদীতে ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তার জেরে হলদ্বানী, উধম সিংহ নগর, পুলভট্টা, শান্তিপুরী এবং সূর্যনগরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে ওই বাসিন্দাদের সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের উঁচু সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ডে হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে বিশেষজ্ঞরা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, গঢ়ওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহরদগা, গুমলা, সরায়কেলা-খরসাওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খূঁটী, পশ্চিম সিংভূমে হড়পা বানের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা থাকছে এই জেলা গুলোয়।
একইভাবে দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডেও। উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় নদীসংলগ্ন বহু এলাকা প্লাবিত। বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিচু এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টিতে বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায়। রীতিমত ফুঁসছে গঙ্গার জল। একই অবস্থা চিত্রকূট এবং মন্দাকিনী নদীর। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ২০টির বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন।