আমফান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করেছিল ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যানগ্রোভ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। প্রশাসনকে বছরে পাঁচ কোটি ম্যানগ্রোভ রোপণ...
আমফান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করেছিল ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যানগ্রোভ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। প্রশাসনকে বছরে পাঁচ কোটি ম্যানগ্রোভ রোপণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানা যায়, ৩ বছরে প্রায় ১৫ কোটি ম্যানগ্রোভ রোপণ হয়। কিন্তু বাস্তবে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৈরি হওয়া ম্যানগ্রোভের দশা হতাশাজনক। সুন্দরবনের বুকে ধ্বংস ম্যানগ্রোভ গাছ। বেআইনিভাবে বছরভর ম্যানগ্রোভ কাটার অভিযোগ। ম্যানগ্রোভ কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনিক উদ্যোগের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরেও বন্ধ হয়নি ম্যানগ্রোভ নিধন। জানা গিয়েছে, মাছের ভেড়ি তৈরিতে ও জ্বালানির কাজের জন্য নির্বিচারে কাটা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ।
অভিযোগ এলে প্রশাসন পদক্ষেপে নেবে, আশ্বাস তৃণমূল নেতৃত্বের। তৃণমূলের নেতারাই ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করছে, পাল্টা অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। দিনের পর দিন, সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে ম্যানগ্রোভ নিধন। উদ্ভিদবিদদের হিসেব অনুযায়ী, দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে সুন্দরবন আছে ৪২৬০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। আর এই এলাকায় সুন্দরী, গড়ান, গেওয়া, বাইনের মত প্রায় ১০০টি প্রজাতির গাছ জন্মায়। তবে এর মধ্যে ২৮টি প্রকৃত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ বলেই দাবি উদ্ভিদবিদদের। এখন এই ম্যানগ্রোভই ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। কতদিন পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন, এখন তাই দেখার।