প্রকৃতির রুদ্র রোষে তছনছ ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। বুধবারের হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কয়েক-শো ভারতীয়। নেপাল পর্যটন পর্ষদ সূত্রে খবর, ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। যাঁদে...
প্রকৃতির রুদ্র রোষে তছনছ ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। বুধবারের হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কয়েক-শো ভারতীয়। নেপাল পর্যটন পর্ষদ সূত্রে খবর, ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। যাঁদের মধ্যে রয়েছে প্রায় কয়েক-শো ভারতীয়। এমতাবস্থায় নিখোঁজদের খোঁজে গতকাল থেকেই চলছে উদ্ধার কাজ। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবারের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল পর্যটকদের। কিন্তু তার আগেই মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায় সব। রাক্ষুসে কাদা জলে ভেসে যায় রাস্তা, বাড়ি-ঘর, মানুষ। তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়ায় হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ওই জেলার বিস্তীর্ন এলাকা। ভেঙে যায় সেতু। এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ পর্যটক রাসুয়াগড়ির কাছে নিখোঁজ হয়ে যান। বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ১৬০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে বহু পরিবার গৃহহীন হয়েছেন। সব মিলিয়ে নিখোঁজ প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।
ইতিমধ্যেই নেপালে ভারতীয় দূতাবাস থেকে দু’টি ফোন নম্বরও চালু করা হয়েছে। নিখোঁজ বা হড়পা বানে প্রভাবিত ভারতীয়দের বিষয়ে কোনও তথ্যের জন্য ওই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নম্বরগুলি হল +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০। সূত্রের খবর, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার ১৭ জন, ব্রিটেনের ১২ জন, সাউথ আফ্রিকার চার জন, আমেরিকার তিন জন, অস্ট্রেলিয়ার এক জন এবং নেদারল্যান্ডসের এক জন পর্যটক। বাকি ১১১ জন বিদেশি কোন দেশের নাগরিক, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতীয়রাই।
স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে খবর, গতকাল সকাল থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল। রোদও উঠেছিল। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান, তিব্বতের দিক থেকে প্রবেশ করেছে বন্যার জল। প্রাথমিক ভাবে খবর, চিন সীমান্তবর্তী তিমুরে এবং স্যাব্রুবেসী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তিব্বতেও। চিনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নেপালের দিকে হওয়া হড়পা বানের জেরে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।