বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সংক্ষেপে ‘হু’-এর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। সম্...
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সংক্ষেপে ‘হু’-এর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, পদের অপব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমতাবস্থায় তাঁর আচমকা ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে অনেকে।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার হু-র প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা করেছেন সায়মা। পদত্যাগপত্রে গেব্রিয়েসাসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানান হাসিনা-কন্যা। নিজের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, 'যেহেতু আপনি দায়িত্ব পালনে আমায় বিরত করে চলেছেন, সেহেতু আমি হু-তে আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।' সায়মার সংযোজন, 'প্রায় এক বছর আপনার নির্দেশে আমি বেতন বা সাম্মানিক ছাড়াই ছুটিতে রয়েছি। আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন সফরে গিয়ে হাসিনা-কন্যা আর্থিক দুর্নীতি করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি হাসিনা-কন্যার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন সায়মা। এরপর গত ৩ জুলাই হু-কে একটি চিঠি দেন সায়মার আইনজীবীরা। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে আরেকটি নতুন অভিযোগ তোলা হয় যে, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধ ভাবে দখল করেছেন হাসিনা-কন্যা। পদত্যাগপত্রে সেই অভিযোগও খারিজ করে সায়মার দাবি, হু-র পদে বসার আগেই ওই জমিটি অধিগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ভোটে হু-র ওই শীর্ষস্তরে অধীন হন হাসিনা কন্যা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নিযুক্ত করে হু। কিন্ত ঘটনাচক্রে ওই বছরই বাংলাদেশ থেকে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। যার কোপ পড়ে সায়মার বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধেও শুরু হয় তদন্ত। তার পরেই ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সায়মাকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠায় হু।