ইরানের ধারাবাহিক হামলায় কার্যত স্তব্ধ হরমুজ প্রণালী। আর যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা আরও কতদিন জারি থাকবে তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অন্যদিকে ইরান ...
ইরানের ধারাবাহিক হামলায় কার্যত স্তব্ধ হরমুজ প্রণালী। আর যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা আরও কতদিন জারি থাকবে তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অন্যদিকে ইরান চাইলেই লাগাতার ড্রোন হামলা করে এই প্রণালীকে আরও কয়েকমাস স্তব্ধ রাখতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
গত শনিবার ইজরায়েল এবং আমেরিকা একযোগে হামলা চালায় ইরানের উপর। সেই হামলায় মৃত্যু হয় তেহরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। নিহত হন তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, জামাই-সহ আরও একাধিক শীর্ষ নেতা। সেই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একাধিক দেশের মার্কিন সেনাঘাটি ও দূতাবাস লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। ছোড়া হয় ১০০০টিরও বেশি ড্রোন। যার মধ্যে বেশিরভাগ গুলোই ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু আটকানো যায়নি। সেগুলি গিয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক ভবনে, আবাসনে, এমনকি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও।
এই অবস্থায় ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রকের অনুদানে চলা এক সংস্থার দাবি, ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলির মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে ইরান। প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির ক্ষমতা রাখে এই দেশ। অন্যদিকে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর অনুমান, তেহরানের কাছে প্রায় ২৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। যদিও অন্য বিশ্লেষকদের মতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৬০০০-এর আশপাশেও হতে পারে। এই অবস্থায় পশ্চিম এশিয়ায় কতদিন পর্যন্ত ত্রিমুখী সংঘর্ষ জারি থাকবে, তা অনেকাংশ নির্ভর করছে ইরানের অস্ত্র ভাণ্ডারের উপরেই।
তবে কেন এই যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রণালীকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব? তার কারণ এই হরমুজ প্রণালী হল ইরান এবং ওমানের মাঝে এক সরু জলপথ। তবে সরু হলে কি হবে, বিশ্ব বাণিজ্যে এই জল পথের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পথ দিয়েই রোজ বহু দেশের জাহাজ যাতায়াত করে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওই পথ ব্যবহার করা হলে জাহাজে ড্রোন হামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। ইতিমধ্যেই বেশকিছু জাহাজে হামলাও চালিয়েছে তারা। ফলে ওই পথেই আটকে পড়েছে বহু পণ্যবাহী জাহাজ। আর যার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে জ্বালানির দাম।