আরজি কর হাসপাতালের লিফট কাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে টালা থানার পুলিস। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন লিফট ম্যান ও ২ বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা আধিকারিক। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্য...
আরজি কর হাসপাতালের লিফট কাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে টালা থানার পুলিস। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন লিফট ম্যান ও ২ বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা আধিকারিক। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেই পরিবারের তরফে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয় টালা থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। শনিবার ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ।
অন্যদিকে গতকালই মৃত যুবকের চাঞ্চল্যকর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এসেছে। যেখানে যুবকের শরীরের একাধিক গুরতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপের মাথার হার ভেঙে গিয়েছিল। ভেঙেছিল পাঁজরের ৮০ শতাংশ হার ও ডান হাতের কনুই। ফেঁটে গিয়েছিল তাঁর শরীরের ভিতরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। কার্যত থেঁতলে গিয়েছে লিভার এবং ফুসফুস। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শেষে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই যুবকের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরজি কর হাসপাতালকে ফের শিরোনামে তুলে আনল শুক্রবার সকালের ঘটনা। তিন বছরের সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন দমদম নাগেরবাজারের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। লিফটে পাঁচতলা থেকে নীচে নামার সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, প্রবল ঝাঁকুনির পর লিফট নীচে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ক্ষণ দরজা খোলা যায়নি। পরিবারের লোকজনের আকুতিতেও কেউ কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। প্রায় দেড় ঘন্টা ওইভাবেই আটকে থাকার পর অরূপের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর পরিজনেরা। হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান অন্যান্য রোগীর আত্মীয়েরাও।