দুর্গাপুজোয় নিরামিষ-আমিষ বিতর্কের সূত্রপাত করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। যা নিয়ে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল রাজ্যের সাধারণ মানুষ। কে কী খাবে, তা ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধা...
দুর্গাপুজোয় নিরামিষ-আমিষ বিতর্কের সূত্রপাত করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। যা নিয়ে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল রাজ্যের সাধারণ মানুষ। কে কী খাবে, তা ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মতামত জানিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। এমনকি ক্ষোভের আগুন এতটাই বেড়েছিল যে, ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি-কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এমতাবস্থায় বাগেশ্বরের অপমানে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ বার্তা, সবাই গ্রেফতার হবেন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'রাজ্যে একজন ধর্মগুরু এসেছিলেন। তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। গ্রহণ করার হলে করবেন, না করার হলে করবেন না। উনি কারও উপর চাপিয়ে দেননি। তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে শুনলাম। ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পোড়ানো হয়েছে।' এরপরেই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, 'সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা এই কাজ করেছেন, সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে।'
সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসেছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, দুর্গাপুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বা ভণ্ড। পাশাপাশি পুজর ওই দিনগুলো নিরামিষ খাওয়া উচিত বলেও নিধান দিয়েছিলেন তিনি। আর যা ঘিরে পুজোর মুখে দানা বাধে বিতর্ক। যদিও ধর্মগুরুর এই নিদানকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্বের একাংশই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বহিরাগত কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদাভ্যাস বদলে যাবে না। শমীকের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ অন্যান্যরা।