নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। নির্বাচনের আগে বাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অনেকেই গুরুত্বপুর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু মেডিক্যাল এমার্জেন্সি আর সামা...
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। নির্বাচনের আগে বাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অনেকেই গুরুত্বপুর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু মেডিক্যাল এমার্জেন্সি আর সামাজিক অনুষ্ঠানে মানুষ বাইক নিয়ে বের হয় না। কমিশনের দায়িত্ব ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিস নিরাপত্তার জন্য থাকলেও যাতে কোনও রকম অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে তাকিয়েই এই নির্দেশিকা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, প্রথম দফার নির্বাচনে বাইক সিজ করা হয়েছে কই দেখান? কোন ক্ষমতার বলে এই বিজ্ঞপ্তি? মোটর বাইক র্যালির উপর নিষেধাজ্ঞা ঠিক আছে। কিন্তু রেগুলার মোটরসাইকেলে নিষেধাজ্ঞা কেন?
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, আপনারা এত কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করেছেন, নাকা হচ্ছে। পোলিং স্টেশনের ২০০-৩০০ মিটার দূরে চেক করে ঢুকতে দেওয়া বন্ধ করে দিন। সর্বত্র এটা করার প্রয়োজন কি? নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন, সামগ্রিক ভাবে বন্ধ করা হয়নি। ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, যে সমস্ত সমর্থকদের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে তারা সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাদের বাইরে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা বাইক বাহিনীর বিরোধী। বাকি বিধিনিষেধ একেবারে প্রয়োজন নেই। আমি মোটরসাইকেল চালাই আর আমি পালাব এই ধারনার বিরোধী আমরা।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, পৃথিবীর সব কিছুর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিশনের আছে বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু কমিশন তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতার আধার ৩২৪ ধারার দোহাই দিয়ে যে কোনও কিছু নিয়ন্ত্রণের রাস্তায় হাঁটছে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে ওই ক্ষমতা তাদের একচ্ছত্র নয়। ভোট প্রার্থীর বেআইনি কাজ বন্ধের নামে আসলে নাগরিকের অধিকার খারিজ করছে কমিশন। এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করছে কমিশন, যে ক্ষমতা তাদের সংবিধান দেয়নি।
কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ৩২৪ অনুযায়ী সব ধরনের যান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। শেষ ৪৮ ঘন্টাকে সাইলেন্স পিরিয়ড বলা হয়। পন্ডিচেরি, তামিলনাড়ু সহ অন্যত্র বাইক ৱ্যালি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, তার মানে টোটাল ব্যান নয় সেসব জায়গায়। আপনাদের সব যুক্তি মানছি। শুধু দেখান কোন আইনে ৭২ ঘণ্টা সাধারণ মানুষের বাইক ব্যবহারে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন?