বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দর রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সোমবার রাতে। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তৃতার অভিযোগ করে ...
বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দর রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সোমবার রাতে। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তৃতার অভিযোগ করে তৃণমূল। অন্যদিকে, রাকেশের দাবি, ওই ধরনের কোনও বক্তব্যের প্রমাণ দিতে পারলে প্রার্থী হিসেবে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করবেন না। বিজেপির অভিযোগ, হুসেন শাহ রোডে তৃণমূলের কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাদের পথসভায় হামলা চালিয়েছে। কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠার সঙ্গে-সঙ্গেই ডিসি পোর্ট-এর নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিস। শুরু হয় বেধড়ক লাঠিচার্জ। পুলিশের লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যায় ববিতা বর্মণ নামে এক বিজেপি কর্মীর। অন্যদিকে লাঠি নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের তাড়া করে পুলিস। পুলিসের হাত থেকে লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, ডিসি পোর্টের হেলমেট পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। একবালপুর থানার ওসি-র ওপর হামলা চলে। ৬ জন পুলিস কর্মী আহত হন। এই ঘটনায় একবালপুর থানা স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর করে । সেই এফআইআর-এ বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর নেতৃত্বে পুলিসের উপর হামলার অভিযোগ করা হয়। তৃণমূল-বিজেপি, দুই শিবির মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ওই ৯ জনের মধ্যে ৫ জন বিজেপির ও ৪ জন তৃণমূলের কর্মী। সোমবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই ঘটনায় পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, কমিশনের নেতৃত্বে পুলিস পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছে বা রাজনীতির রং দেখে পদক্ষেপ করছে, এদিনের গ্রেফতারির পর সেই অভিযোগ আর ধোপে টিকবে না। কমিশনের বার্তা একটাই: হয় সমঝে চলো, নইলে থানায় চলো।