এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। তবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিস। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নার্সের...
এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। তবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিস। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নার্সের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দিহান তাঁর স্বামী রাহুল দাসও। এমতাবস্থায় এনআরএস হাসপাতালেই তরুণীর ময়নাতদন্ত হোক তা চাইছে না পরিবার।
সূত্রের খবর, পরিবারের দাবি মেনে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত করার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে এনআরএসে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে লালবাজার থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি দলও হাসপাতালে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কলকাতা পুলিসের অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল অগ্রবাল এবং ডিসি সুবিমল পাল। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। কথা বলেন সহকর্মীদের সঙ্গে।
পুলিস সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই অকুস্থল সিল করে দেওয়া হয়েছে। হোমিসাইড শাখা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত পুলিস কমিশনার জানিয়েছেন, 'পরিবার যেখানে চাইবে, সেইমতো আমরা পদক্ষেপ করব। মোট তিনটি অকুস্থল রয়েছে। তিনটিই সিল করা হয়েছে। অকুস্থল থেকে একটি স্ট্রেচার আপাতত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।'
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই নার্সের। রাতের ডিউটিতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউয়ে ছিলেন রুপালি। রাত ৮টায় তাঁর ডিউটি শুরু হয়। পুলিস সূত্রে খবর, ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শৌচালয়ে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও রুপালি শৌচালয় থেকে না বেরোনোয়, ১০টা ২৭ মিনিটে তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করেন সহকর্মীরা। সাড়াশব্দ না পেয়ে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন সহকর্মীরা। সেখানে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় রুপালিকে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বেডে নিয়ে এসে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন চিকিৎসকেরা। তবে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছিল ওই নার্সের। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, রোগীদের ঘুম পাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।