টাকার বিনিময়ে মিলবে কলকাতা পুলিসের চাকরি! এই প্রলোভনে পা দিতেই ধাপে ধাপে ৯ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক পরিবার। অভিযোগের তীর ২ প্রতারকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভ...
টাকার বিনিময়ে মিলবে কলকাতা পুলিসের চাকরি! এই প্রলোভনে পা দিতেই ধাপে ধাপে ৯ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক পরিবার। অভিযোগের তীর ২ প্রতারকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুরু হয়েছে তদন্ত।
জানা যাচ্ছে, সরশুনা এলাকার এক গৃহবধূ কিছুদিন আগে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বিশ্বনাথ সাহা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মহিলার। তিনিই ছিলেন ওই মোটর ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষক। এরপর আলাপের এক পর্যায়ে গিয়ে বিশ্বনাথ টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া সম্ভব বলে দাবি করেন। তখনই ওই মহিলা নিজের ছেলের জন্য একটি সরকারি চাকরির 'অন্যায়' আবদার করেন বিশ্বনাথকে।
তার কিছুদিনের মধ্যে বিশ্বনাথ গৃহবধূকে নিউ আলিপুরের এস.এন. রায় রোডে নিয়ে যান। সেখানে সৌমেন সাহা রায় নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সৌমেন নিজেকে লালবাজার পুলিসের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তারপরেই শুরু হয় ধাপে ধাপে প্রতারণা।
প্রথমে কলকাতা পুলিসের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নগদ ও অনলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে কনস্টেবলের বেতন কম, তাই সাব-ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভে আরও ৩ লক্ষ নগদ চাওয়া হয় বলে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। এই পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে গৃহবধূ নিজের জমি ও শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করেন বলেও জানা গিয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার নাম করে শেষে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও খবর। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরির নাম-গন্ধ না পাওয়ায় সন্দেহ হয় পরিবারের।
কিন্তু ততক্ষনে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। পরে প্রতরণার শিকার হয়েছে বুঝতে পেরে পরিবারের তরফে টাকা ফেরত চাওয়া হলেও কোন জবাব না পাওয়ায় পুলিসের দ্বারস্থ হয় তাঁরা। লিখিত অভিযোগ দায়ের করে হয় সরশুনা থানায়। পাশাপাশি ডিসি অফিসেও অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।