দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার। রবিবার দীর্ঘক্ষণ জেরা করার পর বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে খবর। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইডির লাগাতার...
দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার। রবিবার দীর্ঘক্ষণ জেরা করার পর বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে খবর। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইডির লাগাতার জেরার মুখে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জয়। একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে বর্তমানে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছন তিনি।
অভিযুক্ত জয় কামদার প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও একাধিকবার তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডির গোয়েন্দরা। সেই সময় তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করেছিল তারা। পরে তাঁকে দুবার ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা বললেও সেই হাজিরা এড়িয়ে যান ব্যবসায়ী। মূলত কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্র ধরেই এই জয়ের হদিশ পান গোয়েন্দারা। ঘটনাক্রমে রবিবার বেহালায় প্রোমোটারের বাসভবনে হানা দেয় ইডি-র একটি দল। বেশ কিছু ক্ষণ তল্লাশির পর জয়কে আটক করেন তারা। পরে বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরেই শুরু হয় ম্য়ারাথন জেরা। কিন্তু সেই সময় তিনি আচমকা অসুস্থ বোধ করেন বলে খবর।
এরপর গতকালই তাঁকে প্রথমে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে নিয়ে যাওয়া অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে সেখান থেকেও তাঁকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় আরজি কর হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন জয়। একজন ইডি আধিকারিক নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন। মূলত রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার জন্যই গতকাল তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্রের খবর, যদি আজ জয় সুস্থ বোধ করেন তাহলেই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। নাহলে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি আদালতে পেশ করবে ইডি। অন্যদিকে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জয়ের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সঙ্গে বেশ কিছু ডিলিট চ্যাট রিস্টোর করার চেষ্টাও করছেন গোয়েন্দারা। ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একাধিক হিসেব বহির্ভূত লেনদেনের হদিশ মিলেছে। একাধিক ভুয়ো একাউন্ট মারফত কালো টাকা সাদা করা হতো বলেও অভিযোগ। প্রায় ২০-২৫ টি ভুয়ো সংস্থার খোঁজ পেয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মোট ৫৫০ কোটি টাকা নগদ লেনদেনের হদিশও মিলেছে।