আগামীকাল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। যা নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আনন্দের। কিন্তু ১৫ অগাস্টের ঠিক আগের দিন, ১৪ অগাস্ট দিনটি দেশজুড়ে স্মরণীয় অন্য কারণে। যার নেপথ্যে জড়িয়ে যন্ত্রণা ও দ্বিজাতি তত্...
আগামীকাল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। যা নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আনন্দের। কিন্তু ১৫ অগাস্টের ঠিক আগের দিন, ১৪ অগাস্ট দিনটি দেশজুড়ে স্মরণীয় অন্য কারণে। যার নেপথ্যে জড়িয়ে যন্ত্রণা ও দ্বিজাতি তত্ত্বের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। আজ, শুক্রবার মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ফের সেই কথাই মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, 'ভারতকে বিভাজিত করার নামে দুটি হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। একটি একাত্তরে বাংলাদেশ, আরেকটি ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এসব ভুলব কী করে? গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন না থাকলে হিন্দুরা শূন্য হয়ে যেত।'
বস্তুত, বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার পালিত হল 'বিভাজন বিভীষিকা' স্মরণ দিবস। রাজ্যপাল আরএন রবি সরকারি উদ্যোগে এই দিনটি পালন করার কথা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা গ্রহণ করে সরকারের তরফে এই দিনটি পালন করা হয়। শুক্রবার দেশভাগ-দাঙ্গা-হিন্দুনিধন প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'জিন্নার নেতৃত্বে সেদিন ভারতকে বিভাজিত করার নামে ২ হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ হবে না। সেদিন ক্ষমতার লোভে দেশভাগ হয়েছে। বিভীষিকাময় দেশভাগ। আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই। এতদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শিবাজি, মহারানা প্রতাপ সবাইকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ইতিহাস আমাদের আরও ভালোভাবে জানতে হবে।'
পাশাপাশি এই দিনটির শহর কলকাতার সম্পর্ক জুড়ে শুভেন্দু আরও বলেন, 'দেশভাগের পর এই এলাকা সবচেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেদিন একমাত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে আজ হিন্দুরা থাকতেন না। কলকাতার একটা রাস্তার নাম ছিল সুরাবর্দি না কী। সেটা পালটে আমরা 'গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ' করেছি।' সব মিলিয়ে বদলের বাংলায় ইতিহাসকে স্মরণে রাখার সরকারি এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার বলেই মনে করছেন অনেকে।