সম্প্রতি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। যার ফলে প্রশাসনের 'শাস্তি'র মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। ইতিমধ্যেই ৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে তাঁর বিরু...
সম্প্রতি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। যার ফলে প্রশাসনের 'শাস্তি'র মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। ইতিমধ্যেই ৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমতাবস্থায় এই বিষয়কে সামনে রেখে ফের কড়া মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, 'উনি (অনন্ত মহারাজ) ক্ষমার অযোগ্য কথা বলেছেন।'
দিন কয়েক আগে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ নেতাজির নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, 'শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।'
আর এই বক্তব্য সামনে আসতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয় রাজ্য তথা রাজনীতিতে। কড়া হুঁশিয়ারি শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। নেতাজিকে কেউ অপমান করলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি। এরপরেই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয় রাজ্য সরকার। যা পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের এই কঠোর পদক্ষেপের পরও বেশ কিছুক্ষণ আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেছিলেন অনন্ত, কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ কিছুই হয়নি। কারণ পরে সুর নরম করে সমাজমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।
এমতাবয়স্থায় আজ, শুক্রবার ভবানীপুরে যুবশক্তি কাপের উদ্বোধনে গিয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'ভিডিও পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছে দেখলাম। উনি পরবর্তীতে এহেন আচরণ করবেন না বলেছেন। বিষয়টা আমাদের ইতিবাচক ভাবেই দেখা উচিত। তবে ওনার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এই সংক্রান্ত ১৮২ টা পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে। কারও কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হয়েছে। ৫ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে উনি ক্ষমার অযোগ্য কথা বলেছেন।'