অসীম সেন: কলাগাছের ভেলায় শুয়ে আছে লখিন্দর। বেহুলা কেঁদে চলেছেন আর বিধাতাকে দোষ দিয়ে চলেছেন। বেগবতী আদিগঙ্গা। বেহুলার ভেলা চিৎপুরে বাঁক নিয়ে কালীঘাটে প্রবেশ করার পর বারুইপুর হয়ে সুন্দরবনের এক ঘাটে এসে ...
অসীম সেন: কলাগাছের ভেলায় শুয়ে আছে লখিন্দর। বেহুলা কেঁদে চলেছেন আর বিধাতাকে দোষ দিয়ে চলেছেন। বেগবতী আদিগঙ্গা। বেহুলার ভেলা চিৎপুরে বাঁক নিয়ে কালীঘাটে প্রবেশ করার পর বারুইপুর হয়ে সুন্দরবনের এক ঘাটে এসে থামল। পরবর্তীকালে মানুষ এই ঘাটকে চিনেছে বেহুলার ঘাট হিসেবে। দ্বাদশ শতাব্দিতে বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলে লেখা রয়েছে এই গল্প। এই বেহুলার নাম থেকেই কী বেহালা?
বেহালা কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ১৯৫১ সালে মূল বেহালা আসনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে এই আসনটি বিভক্ত হয়ে বেহালা পূর্ব এবং বেহালা পশ্চিম দুটি আলাদা কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই কেন্দ্র দুটিতে লড়াই আপাতত দুই ফুলের মধ্যে। বেহালা পশ্চিম বরাবর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব ভূম। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। পূর্ব বেহালা থেকে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে আসতে হয় পশ্চিম বেহালায়। বেহালার নামকরণের আর একটি ইতিহাস রয়েছে।
গোটা অঞ্চল আগে সুন্দরবনের অংশ ছিল। এখানকার বাসিন্দারা অধিকাংশই ছিলেন জেলে আর মধুকর। সে সময় বেহালার শাসক ছিলেন ধনঞ্জয় মিত্র। তিনি ছিলেন দেবী চণ্ডীর উপাসক। চণ্ডীর অপর নাম বহুলা। অনেকে মনে করেন বহুলা থেকে বেহুলা নামটি এসেছে। তখন বেহালা ছিল সমৃদ্ধ জনপদ। এলাকার ছোট ছোট গ্রামগুলির শেষে ব্যবহৃত হত বেহালা। যেমন বোঁড়শেবেহালা (বড়িশা ),
প্রতাপাদিত্যের কাকা বসন্ত রায়ের রাজধানী ছিল সরশুনোবেহালা। প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে মুঘলদের যুদ্ধ লাগলে আকবরের হয়ে লড়াই করেছিলেন লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বীরত্বে খুশি হয়ে জাহাঙ্গির তাঁকে বিশাল অঞ্চলের জাগির দান করেন। লক্ষ্মীকান্তের রাজধানী ছিল বোঁড়শেবেহালা। সাবর্ণ রায়চৌধুরীরা তাঁরই বংশধর ছিলেন।