অসীম সেন: ভগ্নসাগর পারে সুরম্য জগন্নাথের মন্দির। রথযাত্রা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দিঘায়। মন্দির ঘিরে বিতর্ক রয়েছে হাজার। কিন্তু দেব মন্দির সবসময়ই একটি ভক্তিরস পরিবেশন করে। দিঘার জগন্নাথ মন্দি...
অসীম সেন: ভগ্নসাগর পারে সুরম্য জগন্নাথের মন্দির। রথযাত্রা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দিঘায়। মন্দির ঘিরে বিতর্ক রয়েছে হাজার। কিন্তু দেব মন্দির সবসময়ই একটি ভক্তিরস পরিবেশন করে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ধাম হিসেবে পরিচিত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথায় বলে নামে কীইবা এসে যায়। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এসে যায় বইকি। যখন তার মধ্যে ধর্ম জড়িয়ে থাকে, যখন তার মধ্যে আবেগ জড়িয়ে থাকে।
হিন্দু ধর্মে চারটি তীর্থক্ষেত্রকে ধাম আখ্যা দেওয়া হয়েছে উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধাম, পশ্চিম উপকূলের গুজরাটে দ্বারকা ধাম, দক্ষিণে রামেশ্বরম ধাম এবং পূর্বে পুরী ধাম। এই চারটি স্থান হিন্দুধর্মের ঐক্য এবং আধ্যাত্মিক পূর্ণতার প্রতীক। সমগ্র ভারতকে এক সূত্রে বাঁধতে এবং সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান করতে ভারতের চার কোণে চারটি তীর্থস্থানকে এক সুতোয় বাঁধেন আদি শঙ্করাচার্য।
এছাড়াও এই চারধাম প্রতিষ্ঠার মধ্যে তৎকালীন রাজনীতি রয়েছে। তখন ভারত খণ্ড খণ্ড রাজ্যে বিভক্ত। অপর ধর্ম অপর জাতের হাত থেকে হিন্দুদের সুরক্ষিত রাখতে আদি শঙ্করাচার্য এই পদক্ষেপ নেন। এই চার ধাম বিষ্ণুর লীলাক্ষেত্র। বদ্রীনাথ সত্য যুগের প্রতীক যেখানে ভগবান নর-নারায়ণ রূপে তপস্যা করেছিলেন। ক্রেতা যুগের প্রতীক রামেশ্বরম এখানে রাম শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা ও পূজা করেন। দ্বারকা ছিল দ্বাপর যুগে ভগবান কৃষ্ণের রাজধানী। পুরী কলিযুগের প্রধান ধাম।এখানে শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথ রূপে বিরাজমান।
লোকবিশ্বাস অনুসারে ভগবান বিষ্ণু বদ্রীনাথে স্নান করেন, দ্বারকায় পোশাক পড়েন, পুরীতে ভোজন করেন এবং রামেশ্বরমে বিশ্রাম নেন। এই চার ধাম হল মোক্ষ লাভের পথ। হাজার হাজার বছর ধরে সযত্নে লালিত এই বিশাল ভাবনার কাছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এই জগন্নাথ মন্দির দিঘাকে ভ্রমণ মানচিত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ভিড় টানতে পারে পর্যটকদের। সে আলাদা প্রশ্ন। কিন্তু সনাতন ধর্মের যে বিশালতা, সেখানে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ধাম হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা নেহাতই বালখিল্য আচরণ।
পালাবদলের পর এবারের রথ উৎসবে ভক্তদের ঢল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে। রাজ্য সরকারের প্রয়াসে সমস্তরকম সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে উৎসবকে সুচারু ভাবে পরিচালিত করতে। সকলের শুভ হোক ,কারণ তিনি জগতের নাথ। জগন্নাথ স্বামী নয়ন পথগামী ভবতু মে।