অসীম সেন: বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে নয় মন্দির, মসজিদ চিরকাল রাজনীতির অংশ হয়ে এসেছে। শিখদের পবিত্র স্বর্ণ মন্দির তৈরির পিছনেও কিছু তথ্য, কাহিনী রয়েছে। একটা মত, গুরু অর্জুন দেব একজন মুসলিম সাধক হযরত মিয়া...
অসীম সেন: বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে নয় মন্দির, মসজিদ চিরকাল রাজনীতির অংশ হয়ে এসেছে। শিখদের পবিত্র স্বর্ণ মন্দির তৈরির পিছনেও কিছু তথ্য, কাহিনী রয়েছে। একটা মত, গুরু অর্জুন দেব একজন মুসলিম সাধক হযরত মিয়ান মীর জিকে দিয়ে ১৬৮৮ সালে স্বর্ণ মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আর একটি মত বলে যে সম্রাট আকবর জমিটি দান করেছিলেন। আকবর সকল ধর্মকে মর্যাদা দিতেন। কেন দিতেন? একটা কারণ অবশ্যই ভিন ধর্মের মানুষদের প্রশাসনের সপক্ষে টানা। পরম মুসলিম অওরঙ্গজেবের আমলেও মন্দির নির্মাণে অনুদান ও জমি দেওয়ার নথি পাওয়া যায়। কেরালার রাজা চেরামান পেরুমল আরববিশ্বে ভারতের প্রথম মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন বলে জানা যায়।
রাজনীতির ধরণ ধারণ বদলেছে বটে কিন্তু মূল টা একই রয়ে গিয়েছে। এখনও মন্দির মসজিদ রাজনীতি বাংলার একাংশকে প্রভাবিত করে। অন্তত এমনটাই মনে করেন রাজনীতির কেষ্টবিষ্টুরা। তাই বাবরি মসজিদ তৈরি হয়, তৈরি হয় রাম মন্দির কিংবা জগন্নাথ ধাম। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় বিতর্কিত রামমন্দির উদ্বোধন হল। রামকে তার বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছিলে পদ্মশিবির। ভাবা গিয়েছিল হিন্দুরা ঝুলি উজার করে ভোট বাক্স ভরিয়ে দেবে। কিন্তু তেমন আর হল কই? উত্তরপ্রদেশের আশিটা আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ৩৩ টি আসন। রামমন্দির মিল্কিপুর বিধানসভার অন্তর্গত, সেখানে প্রায় আট হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল বিজেপি। অযোধ্যাকেন্দ্রিক ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা সাংসদ লাল্লু সিংহ হেরেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী অবধেশ প্রসাদের কাছে। মোদ্দা কথা রাম মন্দির গেরুয়া শিবিরকে ভোট বৈতরণী পার করতে পারেনি। তাহলে জগন্নাথ ধামের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
পূর্ব মেদিনীপুরে ভগ্নসাগর পারে জগন্নাথ মন্দির। মন্দির আর ধাম এই দুটি শব্দবন্ধ নিয়ে বিতর্কও নেহাত কম হয়নি। পূর্বমেদিনীপুর বিরোধী নেতার চারণ ভূমি। আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এই জেলায় বইতো তৃণমূলের হাওয়া। বর্তমানে ঠিক উল্টো। ২০২৫ সালে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দীঘার জগন্নাথ ধামের উদ্বোধন হয়। এক বছরের মধ্যে দর্শনার্থী ছুঁয়েছে প্রায় দেড় কোটি। কিন্তু এই ভীড় ভোটে প্রতিফলন ঘটাবে কি? এমনিতে গত লোকসভায় জেলার অধিকাংশ বিধানসভা অঞ্চল ছিল বিজেপির অনুকূলে। তবে রাজ্যের শাসকদলের দাবি জগন্নাথ ধাম যেমন ধর্মকে প্রাধান্য দিয়েছে। ঠিক তেমনই আর্থসামাজিক দিকেও একটা জোয়ার এনেছে।এই মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল অর্থনীতি। জগন্নাথ ধাম ২০২৬ সালে ঘাসফুলের পক্ষে হাওয়া টানে কিনা তা অবশ্য সময় বলবে। রাজনীতিতে অনুমান কথাটা নেহাতই ফালতু কথা।