অসীম সেন: গঙ্গার তীরে অবস্থিত কলকাতার প্রাচীন জনপদ কাশীপুর এবং বেলগাছিয়া। দুই অঞ্চল মিলে কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র কাশীপুর-বেলগাছিয়া। হুগলি নদির তীরে অবস্থিত। তাই এই অঞ্চল প্রথম থেকেই...
অসীম সেন: গঙ্গার তীরে অবস্থিত কলকাতার প্রাচীন জনপদ কাশীপুর এবং বেলগাছিয়া। দুই অঞ্চল মিলে কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র কাশীপুর-বেলগাছিয়া। হুগলি নদির তীরে অবস্থিত। তাই এই অঞ্চল প্রথম থেকেই শিল্প সমৃদ্ধ। একসময় এই এলাকাটি জুটমিল ও বিভিন্ন ছোট-বড় কল-কারখানার জন্য বিখ্যাত ছিল। সকালের ঘুম ভাঙত কারখানার সাইরেনে।এখানকার সর্বমঙ্গলা চিত্তেশ্বরী মন্দির , কাশীপুর উদ্যানবাটি ইতিহাস বহন করে। এই দুটি অঞ্চলের নামের পিছনে নির্দিষ্ট কাহিনী আছে।
কাশীপুর নামটি সম্ভবত এসেছে খাসা বা খাসি থেকে যার অর্থ সুক্ষ্ম মসলিন। পুর বা পুরী অর্থ গ্রাম। সপ্তদশ শতাব্দীতে সুতানুটির নিকটবর্তী চিতপুরের পাশাপাশি কাশীপুরেও উন্নত মানের সুতি বস্ত্রের উৎপাদন ও ব্যবসা হতো। সেই সূক্ষ্ম বস্ত্র বা 'খাসা' থেকেই এই স্থানের নাম 'কাশীপুর' হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বেলগাছিয়া অঞ্চলে আগে প্রচুর বেল গাছ ছিল যার থেকে এলাকার নাম বেলগাছিয়া। এখানে বেলগাছিয়া জমিদার বাড়ি একটি জনপ্রিয় স্থান। এই বাড়ির সঙ্গে দ্বারকানাথ ঠাকুরের নাম জড়িয়ে আছে। পরবর্তীকালে এই জমিদার বাড়ি পাইকপাড়ার রাজাদের হাতে চলে যায়। এ বাড়ির নম হয় পাইকপাড়া রাজবাড়ি।
কাশীপুর উদ্যানবাটীতেই রামকৃষ্ণ ১৮৮৬ সালে মহাসমাধি লাভ করেছিলেন। ২০১১ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর, কাশীপুর ও বেলগাছিয়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রগুলি বিলুপ্ত করে একটি নতুন কেন্দ্র, কাশীপুর-বেলগাছিয়া গঠিত হয়। নতুন বিধানসভা তৈরির পর থেকে এই বিধানসভা ঘাসফুলের দূর্গে পরিণত হয়।