অসীম সেন: সাঁতরাগাছিতে বুলবুল দার ভাইয়ের দোকানে পা রাখার জায়গা নেই। পাউরুটি, প্লাস্টিকের বাক্সে বাজার চলতি লাড্ডু। পাঁচ লিটারের জলের বোতল, সব মিলিয়ে কিছুটা পথের রশদ জোগার করে নেওয়া। মহারাষ্ট্র, চেন্না...
অসীম সেন: সাঁতরাগাছিতে বুলবুল দার ভাইয়ের দোকানে পা রাখার জায়গা নেই। পাউরুটি, প্লাস্টিকের বাক্সে বাজার চলতি লাড্ডু। পাঁচ লিটারের জলের বোতল, সব মিলিয়ে কিছুটা পথের রশদ জোগার করে নেওয়া। মহারাষ্ট্র, চেন্নাই, গুজরাট থেকে থিকথিকে ভিড় ফিরছে। ফিরছে গণতন্ত্রের উৎসবে। উৎসব কথাটি কি একটু ভুল হল? ওরা ফিরছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে। মুর্শিদাবাদের আনোয়ারের সামনেই বোনের বিয়ে। এখন টাকা খুব দরকার। তার থেকেও বেশি দরকার ভোটার হিসেবে নিজের নাম টিকিয়ে রাখা।
কী করে যেন একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছে, এবারে ভোট না দিলে পরের বার এসআইআর এ নাম তোলা মুশকিল হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন ধরে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়তি ভিড় চোখে পড়়ছে। বুধবার তা ছিল সবচেয়ে বেশি। সামান্য কিছু সম্বল লিয়ে চলেছে বাড়ির উদ্দেশে। কামরায় পা রাখার জায়গা নেই। বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গায় শয়ে শয়ে যাত্রী। টিকিট রিজার্ভ করে জায়গা পাচ্ছেন না। কেউ কেউ ট্রেন রুটে বাড়তি ভিড় দেখে বাসকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেই বা জায়গা কোথায়। গত তিন ধরে করিম বাসের মাথায় চড়ে বাড়ি ফিরছেন। তেল চিটচিটে কম্বলটাই মাথায়মুড়ে নিচ্ছেন রাতের বেলায়। কাটোয়া লোকাল, ব্যান্ডেল লোকাল, মেদিনীপুর লোকাল সব এখন ভোট লোকাল।
পুণে থেকে আগত করিমরা মোট সতেরজন এসেছেন ভোট দিতে। এমনিতেই পরিবারের এগার জনের চার জনের নাম বাদ গিয়েছে এসআইআর এ। ভয়টা চেপে বসছে। যদি এ রাজ্যে থাকতে দিতে না চায়, যদি ভিটে মাটি হারাতে হয়। এমনিতে ভোটার কার্ডে নাম না থাকা মানে সবকিছু সুবিধা হারানো। ব্যাঙ্কের বই পর্যন্ত নিজের নামে থাকবে না। সুতরাং ভোটটা দিতে হবে। যেমন করে হোক। ভোট দিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিবছরই বাড়ি ফেরে। এবার হিড়িকটা অনেকটাই বেশি। ভয় ঢ়ুকেছে মনে। নিজের দেশে বহিরাগত হবার ভয়। নিজের রক্তের সম্পর্কগুলিকে হারানোর ভয়। ভীড়ের কোনও নাম হয় না। ওরা সকলেই পরিযায়ী, ওরা সকলেই এবার ঘরমুখী।