অসীম সেন: একটা অভিযোগ অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে যুব সমাজে একটি ধারণা ইনজেক্ট করে স্বাধীনতা সংগ্রামে আর এস এস এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। এখানে প্রথ...
অসীম সেন: একটা অভিযোগ অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে যুব সমাজে একটি ধারণা ইনজেক্ট করে স্বাধীনতা সংগ্রামে আর এস এস এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। এখানে প্রথমেই একটা কথা বলে নেওয়া যাক ১৯২৫ সালে আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং তাঁর পরবর্তী নেতৃত্ব মনে করেছিলেন হিন্দু সমাজ জাগলে তারাই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবে। আদর্শগত অবস্থান যাই হোক না কেন? স্বাধীনতা ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সযত্নে লালন করা এক স্বপ্ন। বহু আর এস এস কর্মীরা স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেদের জীবন আহুতি দিয়েছিলেন।rnrnরামদাস রামপুরে ছিলেন একজন আরএসএস কর্মী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রণী সেনানি। রামদাস মহারাষ্ট্রের চিমুর অঞ্চলের একজন আরএসএস স্বয়ংসেবক ছিলেন। ১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং চিমুরে একটি বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর নির্মমভাবে গুলি চালালে তিনি ঘটনাস্থলেই শহিদ হন।দাদা নায়েক ভারতের সংগ্রামের ইতিহাসের অত্যন্ত পরিচিত এক নাম। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মহারাষ্ট্রের চিমুর অঞ্চলে তিনি অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। চিমুরে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তাঁর হাতে তীব্র আকার ধারণ করে। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরবর্তীতে সাজা লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।rnrnভারত ছাড়ো আন্দোলনে গুজরাটের প্রথম শহিদ উমাকান্ত কাদিয়া। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন তরুণ কর্মকর্তা উমাকান্ত, ভারতছাড় আন্দোলনের প্রথম দিনই আহমেদাবাদের খাদিয়া পোস্ট অফিসের কাছে একটি বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করেন এবং মিছিলে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আরএসএস এর আর সেবক হেমু কালানি মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফাঁসিকাঠ বরণ করেনিয়েছিলেন। এরকম আরও অনেক নাম আছে। এরকম আরও অনেক স্বার্থত্যাগের কাহিনি আছে। সুতরাং ভারতের স্বাধীনতার পিছনে সদ্যজাত একটি প্রতিষ্ঠানের কী অবদান আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে ভেবে দেখার সময় হয়ে এসেছে বইকি।