সৌমিত্র সত্যজিতের বাড়িতে একদিন গেছেন- সে অনেকদিন আগেকার কথা - পুত্র তখন খুবই ছোট। কথায় কথায় সৌমিত্র বললেন- জানেন তো মানিকদা , আমার ছেলে সৌগত বেহালা বাজানো শিখছে এবং বেশ ভালই বাজাচ্ছে ।সত্যজিৎ একটা ...
সৌমিত্র সত্যজিতের বাড়িতে একদিন গেছেন- সে অনেকদিন আগেকার কথা - পুত্র তখন খুবই ছোট। কথায় কথায় সৌমিত্র বললেন- জানেন তো মানিকদা , আমার ছেলে সৌগত বেহালা বাজানো শিখছে এবং বেশ ভালই বাজাচ্ছে ।
সত্যজিৎ একটা কাজ করছিলেন, তিনি মুখ তুলে বললেন- ও তাই নাকি! তাহলে দেয়াল থেকে ও ওই জিনিসটা নামিয়ে নিয়ে যাও। সৌমিত্র দেয়াল থেকে একটি পুরনো ভায়োলিন নামিয়ে আনলেন।
আমাদের বাড়িতে কে আর বেহালা বাজায় বলো। তোমার ছেলেকে বোলো এবার থেকে এটাতেই শিখবে। এটা তো অনেক পুরানো মানিকদা। সত্যজিৎ স্মিত হেসে বললেন- হবেই তো। এটা কে বাজাতেন জানো? আমার ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর। সৌমিত্র আঁতকে উঠে বললেন - না না। এটা নেওয়া উচিত হবে না -আপনাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। সত্যজিৎ আশ্বাসের কণ্ঠে বললেন- পারিবারিক ঐতিহ্যকে বেঁধে রাখতে হয় বুঝি? তাকে উত্তরাধিকারে প্রবাহিত হয় যেতে দিতে হয়। তুমি তো আমার পরিবারের মতই। তুমি নিশ্চিন্তে নাও। যন্তরটার নাম দিয়েছি আমাটির ভেঁপু!
আম আঁটির ভেঁপু তো একটা বইয়ের নাম মানিকদা। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালীর শিশু সংস্করণ। যেটার প্রচ্ছদ আপনি করেছিলেন।
হ্যাঁ, আর আর সেটা করতে গিয়েই তো পথের পাঁচালী বানিয়েছিলাম। তবে এই আম আঁটির ভেঁপু কিন্তু সেরকম কিছু নয় ,এর মানে অন্য। এই কথাটা আবার ঠিক আমার নয়। এই কথাটি একচুয়ালি অন্নদা মুনসীর- সত্যজিৎ স্মৃতিচারণা করতে করতে বললেন- আমার পথের পাঁচালী দেখে তিনি বলেছিলেন- সবই তো হল কিন্তু এতে আম আঁটির ভেঁপু কোথায়? তো এই কথাটার অর্থ জানো তো? ইতালিতে আমাতি বলে একটি কোম্পানি আছে বেহালা বানানোয় তারা বিশ্ব বিখ্যাত। এই বেহালা টিও ওই আমাতি কোম্পানির তৈরি। তাই এর নাম দিয়েছি আমাতির ভেঁপু। তবে অন্নদা বাবু ওই যে আমায় বলেছিলেন যে- তোমার পথের পাঁচালী তে আম আঁটির ভেঁপু কোথায় তার আবার একটা অন্য মানেও আছে; আমার পথের পাঁচালী তে কোন রোমান্টিক সিন ছিল না তো, তাই তিনি মজা করে ওই কথাটি বলেছিলেন।
সৌমিত্র ব্যাপারটি ঠিক বুঝতে পারলেন না। তিনি দ্বিধাগ্রস্থ কণ্ঠে বললেন- এটাতো ঠিক....
সত্যজিৎ হো হো করে হেসে বললেন- আরে, ইতালিয়ান ভাষায় আমাতি মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার পথের পাঁচালী তে কোন রোমান্টিক দৃশ্য ছিল না তো তাই এরকম বলেছিলেন।
এই আম আঁটির ভেঁপু কথাটির প্রতি সত্যজিতের এতটাই মুগ্ধতা ছিল যে পরবর্তীকালে ফেলুদার একটি গল্পে তিনি এই নামটি ব্যবহার করেছিলেন।
তথ্য- অমিয় সেন