অসীম সেন: যুধিষ্ঠির বাবু যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ল্যান্ড করেছিলেন, তখন নাকি তাঁর রথের চাকা, মাটি থেকে চার ইঞ্চি ওপর দিয়ে চলত। যদিও চার ইঞ্চি না ছ ইঞ্চি সঠিক ভাবে মাপা হয়নি কখনও। কেষ্ট ঠাকুরকে কারণ জিজ্...
অসীম সেন: যুধিষ্ঠির বাবু যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ল্যান্ড করেছিলেন, তখন নাকি তাঁর রথের চাকা, মাটি থেকে চার ইঞ্চি ওপর দিয়ে চলত। যদিও চার ইঞ্চি না ছ ইঞ্চি সঠিক ভাবে মাপা হয়নি কখনও। কেষ্ট ঠাকুরকে কারণ জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বলেছিলেন, জেষ্ঠ্য পাণ্ডব মিথ্যা কথা বলেন না কখনও, তাই তাঁর রথের চাকা মাটি স্পর্শ করে না। তা এমন ঘটনায় মাথা কিনে নেবার মত কিছু হয়নি। এখনও অনেক মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাঁদেরও মাটিতে পা পড়ে না।
তাঁরা আসেন ভোটের আগে । নিজেদের ভক্তের ভগবান ভেবে কারও দাড়ি কেটে দেন, কেউ বা চাষ করেন, কেউ বা ঘরের কাজ করে দেন । মোটের ওপর মধুসূদন দাদা হয়ে যান। একটি ছোট ভাঁড় দই দিয়ে বলেন, এলোমেলো করে খেতে থাকো বাছা, শেষ হবে না কভু। ভোট আসছে নির্লিপ্ত বদনে চক্ষু নিমীলিত রেখে নেতা বলেন বসুধৈব কুটুম্বকম। আমাকে কুটুম ভেবে খাল কেটে ঘরে ঢোকাও। ভোটারদের নির্মিতিবাদ সম্পর্কে সেরকম আইডিয়া না থাকায়, এসো মা লক্ষ্মী (নারায়ণও বটে) বলে আসন পেতে দেয়,পতাকা তলে আশ্রয় নেয়। চাকরি দুর ছাই, শিল্প গোল্লায় যাক। 'কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ'। ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ পড়ে থাকে মায়ের থানে। চিন্তা একটাই মদিরাগৃহং বন্ধ। একটি ভোটের দাম, বৃদ্ধ সন্ন্যাসী ছোট, দুটি হলে মাঝারি, দুয়ের বেশি হলে খাম্বা।
ভোট এসেছে। উর্দিধারী, দীর্ঘদেহী, বাজখাই কণ্ঠ বিশিষ্ট, পাষাণ হৃদয়, হস্তে অগ্নিউদ্গীরণ যন্ত্র। আপনে বাঁচলে বাপের নাম। ট্যাঁ ফু করার যো থাকবে না বলেই মনে করছেন সকলে। নানা সংকেত, নানা সমীকরণ। সাঁইবাড়ি ইস্যু এখন হাঁফ ছেড়েছে কিছুটা। মরিচ ঝাঁপি জেনে সময় নষ্ট করার সময় নেই। এখন বাজারে ভীষণ ভাবে ইন 'হিন্দু-মুসলিম' দড়ি টানাটানি। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ, দীঘায় জগন্নাথ ধাম। নতুন সংযোজন, ভোটার তুমি বৈধ অথবা বহিরাগত? সব মিলিয়ে দুই দফায় ভোটে বাজার রমরম করছে। সরস্বতী পুজোর মত রাস্তার প্রতি মোড়ে চোঙের ব্যবহার ।
তোমার দাদা আমার দিদি, জয় শ্রী রাম, জয় বাংলা। অর্থ সাহায্য কারও কাছে ভাতা-ভিক্ষা, কারও কাছে উন্নয়নের ফল্গুধারা। আর্যভট্টের আবিষ্কার কেউ কেউ বয়ে বেড়াচ্ছে। জনগণ কনফিউজড। কারও কাছে যাহাই ছাপ্পান্ন তাহাই নবান্ন। এখন শুধু অপেক্ষা, 'মিলন হবে কতদিনে'? কেউ কেউ গত দেড় দশকে বাপ মায়ের মুখ উজ্জ্বল করা উদ্যোগপতি হয়েছেন। কেউ বা লক্ষ্মীর জায়গায় বেছে নিয়েছেন অন্নপূর্ণাকে। মোটের ওপর বাগুাডুলি খেলা চলছে। ভোটারদের বাঁশের ঠেলায় ছুড়ে ফেলা হচ্ছে ভোট ময়দানে। কার পেরেকে কে আটকাবে তা ভগাই জানে।