অসীম সেন: ঘাসফুলে শেষ তুলির টান দিয়ে কোমরে হাত রেখে একবার দেওয়ালটা দেখে নিল নারান। 'যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা'। ওপাশের দেওয়ালে তখন শঙ্কর। এমনিতে দুজনে একটা বিড়ি ভাগ করে খায়। তবে ভোটের কদিন মুখ দ...
অসীম সেন: ঘাসফুলে শেষ তুলির টান দিয়ে কোমরে হাত রেখে একবার দেওয়ালটা দেখে নিল নারান। 'যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা'। ওপাশের দেওয়ালে তখন শঙ্কর। এমনিতে দুজনে একটা বিড়ি ভাগ করে খায়। তবে ভোটের কদিন মুখ দেখাদেখি বন্ধ। শঙ্কর লিখছে 'পাল্টানো দরকার চাই বিজেপি সরকার'। নারান নিশ্চিত তার হাতে পড়লে ও দেওয়ালে পদ্মটা আরও খুলত। ভোটের কবিতা নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে গেলে কাব্য সংস্কৃতির একটা আলাদা দিক খুলে যায়।
তৃণমূলের দেওয়ালে লেখা কবিতা দলবৃত্ত ছন্দে, অন্ত অনুপ্রাস রয়েছে। ভোটটা কাকে দেবে কাকা?/ গ্যাসের দাম হাজার টাকা। উল্টো দিকে বিজেপি লিখল পয়ার ছন্দে।দশ বছর চোরকে দিলেন/ তিন দশক বাম/পাঁচ বছর দিয়ে দেখেন/কেমন রাখে রাম? কিংবা "আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ/দুর্নীতিবাজ তৃণমূলকে ভোট দিও না কেউ" এমন অদ্ভূত অনুপ্রাস ভাবতে রীতিমত এলেম লাগে। ঘাসফুলের ঝোলাতেও ছড়া নেহাত কম নেই। "পাড়ায় পাড়ায় আওয়াজ তোলো,/ চৌকিদার বদলে ফেল"। লেখায় যমক কম, কিন্তু আবেদন স্পষ্ট। কিংবা "তৃণমূলের সরকার, মানুষের দরকার" অনুপ্রাস নিয়ে ঠাঁট খুব একটা বেশি না হলেও মানুষের মগজে সহজে ঢুকিয়ে দিতে যথেষ্ট।
বামেরা এখন ভোট রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে ব্যস্ত। শিক্ষিত পার্টির তুলিতে জন্ম নিয়েছে "সেটিং মানুষ বুঝেই গেছে/ খেলা উঠেছে জমে। /বামের ভোট বামেই যাবে,/ সবাই গেছে জেনে।" ছড়াতে যেন কিছুটা আত্মোপলব্ধি। বামেরা ইস্যু গুলিকে তুলে ধরেছে সহজপাঠের ছন্দে। যেমন, ছোট খোকা বলে অ, আ/ হক তাদের চাকরি পাওয়া। কিংবা, মুঠো হাতে এ, ঐ/ শিল্প আনবোই। দেওয়াল লিখনে ছড়ার স্টাইল বদলেছে। এখন আর গলি গলি মে শোর হ্যায়/ রাজীব গান্ধী চোর হ্যায় গোছের লেখা হয় না। এখন তো প্রার্থীদের সাপোর্টে গান পর্যন্ত বাঁধা হয়। কবিতায় উঠে আসে দলবৃত্ত, কলাবৃত্ত, মাত্রা কলাবৃত্ত ছন্দরা। এ ধরণের প্রচার, এখনও একটা শিল্প । যাদের কবিতা কখনও দেখা যায় না ছাপার অক্ষরে। তারা গর্বে বুক ফোলায় দেওয়াল গুলিতে নিজেদের সৃষ্টি দেখে।