অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেখা মিলল বাঘিনী জিনতের। ধরা পড়ল বাঘিনী কিন্তু খাঁচায় নয় ক্যামেরাতে। সকালেই বাঘিনীর পায়ের ছাপ ও স্যাটেলাইট লোকেশন ট্র্যাপ করা হয়েছিল। তার পরেই বনদফতর জানিয়ে দেয় মুকুটমণিপুরে...
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেখা মিলল বাঘিনী জিনতের। ধরা পড়ল বাঘিনী কিন্তু খাঁচায় নয় ক্যামেরাতে। সকালেই বাঘিনীর পায়ের ছাপ ও স্যাটেলাইট লোকেশন ট্র্যাপ করা হয়েছিল। তার পরেই বনদফতর জানিয়ে দেয় মুকুটমণিপুরে অবস্থান করেছে জিনত। তার কয়েক ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর বাঁকুড়ার রানিবাঁধের কাছে ক্যামেরায় ধরা পড়ল বাঘিনী। তাকে লক্ষ করে ঘুম পাড়ানি গুলিও করা হয়। তবে সেই গুলি জিনতের গায়ে লেগেছে কিনা সেই বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি বন কর্তৃপক্ষ।
বনদফতর সূত্রের খবর, বর্তমানে লোকালয় থেকে ৫০০ মিটার দূরে অবস্থান করেছে বাঘিনী। মুকুটমণিপুর লোকালয়ে ঢোকার পর এলাকাবাসীদের সতর্ক করেছিলেন বনকর্মীরা। যেহেতু জঙ্গলের পরিধি অনেক বড় তাই খাঁচার পরিবর্তে নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে জঙ্গল। নিরাপত্তার তাগিদে নেটের বাইরে আগুন জ্বালান হয়েছে। সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ড্রোনের সাহায্যে জিনতের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে বনদফতর। এই সবের মধ্যেই ক্যামেরাবন্দি হল বাঘিনী। তবু ধরা পড়ল না। বলাবাহুল্য এখনও আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।
উলেখ্য,গত ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা হয়েছিল জিনতকে। ২৪ নভেম্বর রেডিও কলার পরিয়ে তাকে সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। তারপর থেকেই একাধিক রাজ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে বাঘিনী। এই সবের মধ্যে গত শনিবার গভীর রাত্রে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার কাঁকড়া ঝড় জঙ্গল থেকে ঢুকে পড়ে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের জঙ্গলে। তারপর থেকেই জিনত বনদপ্তর এর হাতের নাগালে। তাকে ধরতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে বনকর্মীরা। লোকালয়ের মানুষকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে বনদফতর ও পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবুও ভয়ের ছাপ স্পষ্ট গ্রামবাসীদের চোখে মুখে।