দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বাংলায় ১০০ দিনের টাকা বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। খরচের হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি নবান্ন। কেন্দ্র একাধিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল বাংলায়। তা...
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বাংলায় ১০০ দিনের টাকা বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। খরচের হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি নবান্ন। কেন্দ্র একাধিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল বাংলায়। তাদের রিপোর্টেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। এমতাবস্থায়, বঞ্চিত নিম্নবিত্ত মানুষজনকে নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে জমাটি এক নাটকও করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই নাটকে গ্রামবাংলার হতদরিদ্র মানুষের রান্নাঘরে উনুন জ্বলেনি।
বাংলায় পালাবদলের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। কেন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং সহযোগিতার পথে চলে বাংলার প্রাপ্য টাকা আদায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দিল্লি গিয়ে দেড়হাজার কোটি প্যাকেজ আদায় করে এনেছেন। এবার, থমকে থাকা প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে একপ্রস্ত কথা হয়েই রয়েছে। এবার, ১২৫ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকা যেন দ্রুত বরাদ্দ কর হয়।
প্রসঙ্গত, ইউপিএ জমানায় তৈরি মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প সম্প্রতি বদলে গিয়েছে। ১০০ দিনের জায়গায় ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিয়ে তৈরি হয়েছে ভিবি-জি রাম জি (বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ)। কেন্দ্র ও রাজ্য কে কত শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করবে, সেই সমীকরণও পাল্টেছে। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে বাংলার জন্য যে-পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ১৪ হাজার কোটিরও বেশি! এবং সেই হিসেবে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত পাবে ৫ কোটি টাকা!
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়ে দেড় হাজার কোটির প্যাকেজ আদায় করেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অর্থনীতিবিদরা হিসেব করে দেখাচ্ছেন, বামফ্রন্ট ৩৪ বছরে যে-পরিমাণ ঋণ করেছিল, তৃণমূল ১৫ বছরে তার প্রায় চারগুণ বেশি ঋণ করে বসে আছে। এমতাবস্থায়, উন্নয়নের খাতে হোক কি পরিকাঠামোর খাতে, খরচ করার মতো আর কিছু পড়ে অবশিষ্ট নেই রাজকোষে। এমনই এক সন্ধিক্ষণে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার একত্রে পদক্ষেপ করে বাংলার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।
রাজ্যে বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের সঙ্গে দেখা করেন। কথা বলেন, নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গেও। একদিকে বিনিয়োগ আনা, অন্যদিকে রাজকোষের স্বাস্থ্য ফেরানো, এই দুই লক্ষ্য নিয়েই দিল্লিতে যান রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।