সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ফের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হল হাওড়া স্টেশনে। ডাউন শিপরা এক্সপ্রেসে মধ্যপ্রদেশ থেকে হাওড়ায় আসা রোহিত কুমার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে রেল পুলিশ।...
সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ফের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হল হাওড়া স্টেশনে। ডাউন শিপরা এক্সপ্রেসে মধ্যপ্রদেশ থেকে হাওড়ায় আসা রোহিত কুমার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে রেল পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে।
রেল সূত্রে খবর, শিপরা এক্সপ্রেস হাওড়া স্টেশনে ঢোকার পর প্ল্যাটফর্মে ডিউটিতে থাকা আরপিএফ-এর গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারদের সন্দেহ হয় রোহিতের হাতে থাকা ব্যাগ দেখে। ব্যাগটি স্ক্যানারে দেওয়া হলে ভেতরে বান্ডিল বান্ডিল টাকা দেখতে পাওয়া যায়। গুনে দেখা যায় মোট ৪৪ লক্ষ টাকা রয়েছে। টাকার উৎস এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে আয়কর দফতরকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং এই টাকার উৎস খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সাহায্য নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ।
এর আগেও পরপর এমন ঘটনা ঘটেছে হাওড়া স্টেশনে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ৬৭ লক্ষ টাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২৩ লক্ষ টাকা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ২১ লক্ষ টাকা ও ৩০ গ্রামের বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে চার-চারবার একই স্টেশন থেকে কোটি টাকার কাছাকাছি নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক নিরাপত্তা এবং রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।
কীভাবে বারবার এত বিপুল পরিমাণ বেআইনি টাকা এবং সোনা ট্রেনে করে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাচার হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যাত্রীরাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরশুমে হাওয়ালা এবং কালো টাকার লেনদেন বাড়ে। হাওড়ার মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশনকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করছে কোনও বড় চক্র। বারবার টাকা ধরা পড়লেও মূল চক্র অধরা থেকে যাচ্ছে। রেলের স্ক্যানার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এবং আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রকে ভাঙতে আয়কর, ইডি এবং রেল পুলিশের যৌথ অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।