১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। ১৩ টি তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা অনেকেই অনেককিছু গুছিয়ে নিয়েছেন। এবং, ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও, কমিশনের সুপারিশ মতো শহিদ পরিবারের হাতে ২৫ লক...
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। ১৩ টি তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা অনেকেই অনেককিছু গুছিয়ে নিয়েছেন। এবং, ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও, কমিশনের সুপারিশ মতো শহিদ পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের বদলে মাত্র ২ লক্ষ দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার! এবং, আহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার বদলে তৃণমূল সরকার দেয় ১৫ হাজার টাকা!
যাঁদের প্রাণের বিনিময়ে রাজনীতির মই বেয়ে ক্ষমতায় শীর্ষে উঠেছিলেন তৃণমূল নেত্রী, ক্ষমতায় এসে তাঁদের পরিবারকে ২৫ লক্ষের বদলে ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছিলেন! অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয়। যদিও, পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এটাই প্রত্যাশিত। উল্টোটা ঘটলে বরং বিস্ময় তৈরি হত। যাঁর বা যাঁদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসেন কালীঘাটের সর্বময়ী কর্ত্রী, একে-একে তাঁদের ভুলে যেতে শুরু করেন তিনি।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এরপরেও একুশের শহিদ দিবসে ব়্যাম্প তৈরি করে বিপুল টাকা ওড়াতে লজ্জা হত না মমতা ও অভিষেকের?
প্রসঙ্গত, বামজমানার অবসানের পর বাংলায় যখন পালাবদল হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন একুশে জুলাই ও পুলিসের গুলিচালনা নিয়ে একটি কমিশন তৈরি হয়। প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই কমিশন কাজ করে। সেখানে মোট ৪৪ জন সাক্ষ্য দেন। যদিও, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেননি মমতা। এমতাবস্থায়, বাংলায় ফের পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। একুশে জুলাইকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের একাধিক শিবির একাধিক সভার প্রস্তুতি নেয়। এমনই এক মোক্ষম সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন বিধানসভায়। ওই রিপোর্টে কী রয়েছে, তা আর গোপন থাকে না।
প্রথমত, ১৯৯৩ সালে, ২১ জুলাই গুলি চালনার ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তই আসল ‘কালপ্রিট’। সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়-কমিশন মোট ৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব এন কৃষ্ণমূর্তি, স্বরাষ্ট্রসবিচ মণীষ গুপ্ত, কলকাতার পুলিস কমিশনার তুষার তালুকদার, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম। যদিও, একুশে জুলাই গুলিচালনায় সবচেয়ে বড় সাক্ষী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ডাকা হয়নি!