স্কুল শিক্ষায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক পাঠ্যবই বিতর্কের আবহে রাজ্যের সিলেবাস কমিটি আরও সতর্ক হয়ে কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে NCERT-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইকে ঘিরে বিতর...
স্কুল শিক্ষায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক পাঠ্যবই বিতর্কের আবহে রাজ্যের সিলেবাস কমিটি আরও সতর্ক হয়ে কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে NCERT-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইকে ঘিরে বিতর্ক সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। সেই বইয়ের একটি অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য থাকায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ সদস্যের একটি সিলেবাস কমিটি ইতিমধ্যেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা দফতরের সদর দফতর বিকাশ ভবন থেকে জানা গিয়েছে, পাঠ্যবইয়ের খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত মুদ্রণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়।
অতীতে একবার বই ছাপার সময় অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটেছিল। খসড়ায় না থাকলেও ডিজিটাল প্রিন্ট বেরোনোর পরে বইয়ের পাতায় হঠাৎ একটি সাপের ছবি দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত সেই বই বাতিল করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই বই যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া কীভাবে হয়? প্রথমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা পাঠ্যক্রমের খসড়া তৈরি করেন। এরপর তা সিলেবাস কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রয়োজন হলে সংশোধন করে সেই খসড়া পাঠানো হয় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, শিশু সুরক্ষা কমিশন ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে। তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর বিষয়টি যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছে।
তারপর একটি জয়েন্ট রিভিউ কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে। শিক্ষামন্ত্রীর মতামত নেওয়ার পর আবার সংশোধন করা হয়। শেষ ধাপে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য পোর্টালে পাঠ্যক্রম প্রকাশ করা হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিলেবাস তৈরি হয়।