এবার প্রকাশ্যে বিজেপি নেতার হুমকি: বিএলও-দের কলার ধরে টেনে আনুন। তাঁর গোসার কারণ: হিন্দুদের নাম দেওয়া হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে।রাজনীতিকের সহজ নিশানা বিএলও-রা?গত অক্টোবরের শেষে বাংলায়...
এবার প্রকাশ্যে বিজেপি নেতার হুমকি: বিএলও-দের কলার ধরে টেনে আনুন। তাঁর গোসার কারণ: হিন্দুদের নাম দেওয়া হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতিকের সহজ নিশানা বিএলও-রা?
গত অক্টোবরের শেষে বাংলায় এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন। তার কদিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ি-বাড়ি কড়া নেড়ে গণনা ফর্ম দিতে শুরু করেন বিএলও-রা। সেই শুরু। তারপর থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন, সকাল ছ-টা থেকে রাত রাত বারোটা অবধি। গণনা ফর্ম হাতে পেয়ে ভোটারদের হাজাররকম প্রশ্ন, চিন্তা, দুশ্চিন্তা। এবং সেই দুশ্চিন্তার নিরসনে দিনরাত এক করে দিয়ে কমিশনের বিশ্বস্ত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাওয়া।
এখানেই শেষ নয়। একদিকে কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে-অক্ষরে পালন, অন্যদিকে শাসকদলের প্রচ্ছন্ন ও প্রকট হুমকি। এবং, সর্বদা ডাউন থাকা সার্ভার মাঝরাতে গতি পেলে সেখানে যাবতীয় নথি-তথ্য আপলোড করা। এই ভয়াবহ স্নায়বিক চাপ সহ্য করতে না-পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন রাজ্যের একাধিক বিএলও। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের দরুণ হাসপাতালে গিয়ে আর বেঁচে ফেরেননি কেউ কেউ।
এরপর, শুনানি-পর্বেও বিএলও-দের কম ভোগান্তি হয়নি। কার কী নথি রয়েছে বা নেই, সেই নথিতে কাজ হবে কি হবে না, না-হলে কেন হবে না, এহেন প্রশ্নের মুখে জেরবার হয়েছেন তাঁরা। কখনও-বা সরাসরি হুমকির মুখেও পড়েছেন। এমতাবস্থায়, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকে একেবারে বারোয়ারি হারে বিএলও-দের হুমকি-হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতানেত্রীরা। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ঘটে বনগাঁয়। প্রকাশ্যে বিএলও-দের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার অভিপ্রায় সেখানে স্পষ্ট। এবং সেই সঙ্গে দলের তরফেও হুঁশিয়ারি। জনগণের উদ্দেশে বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডলের উদাত্ত আহবান: "বিএলও-রা চক্রান্ত করে নাম বাদ দিয়েছেন। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এদেশে রয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ দিয়েছেন। মতুয়া, নমশূত্রদের নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের নাম রয়ে গিয়েছে। যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁরা বিএলও-দের জামার কলার ধরে থানায় নিয়ে যান। থানা যদি অভিযোগ না-নেয়, তাহলে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন"।
পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা থেকে কার্যত ওই ভিডিয়োর সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, "তৃণমূলের বিএলও-রা চক্রান্ত করে অনেক নাম বাদ দিয়েছেন। নমঃশূদ্র ও মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছে। তার বদলে অনুপ্রবেশকারীদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে শাসকনেতৃত্ব, অন্যদিকে বিরোধীনেতৃত্ব, যে যখন পারছে বারোয়ারি হারে বিএলও-দের ধমক-চমক দিচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-রা রাজনীতিকদের সহজ নিশানা হয়ে উঠছে, মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।