শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গে আগমনকে ঘিরে এক নজিরবিহীন কুনাট্য চলছে। এবং পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ-দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল অথবা কেন্দ্র বনাম রাষ্ট্রপতি-র বাদ-বিবাদ চলছে ঠি...
শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গে আগমনকে ঘিরে এক নজিরবিহীন কুনাট্য চলছে। এবং পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ-দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল অথবা কেন্দ্র বনাম রাষ্ট্রপতি-র বাদ-বিবাদ চলছে ঠিকই। কিন্তু, রাষ্ট্রপতি বনাম মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বৈরথ এক প্রকার নজিরবিহীন।
এই পরিস্থিতিতে, রবিবার ধর্মতলার অনশন মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মথুরাপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ছবিকে হাতিয়ার করেন। যে-ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বসে রয়েছেন! বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজি এইটা (ছবি) আপনার জন্য। রাষ্ট্রপতি একজন মহিলা ও আদিবাসী নেত্রী, তাঁকে সম্মান দেন? তবে বলুন, কেন রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন আর আপনি বসে আছেন"?
তৃণমূলের দাবি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দ্রৌপদী মুর্মুকে আদতে বিজেপি-ই অসম্মান করে এসেছে ধারাবাহিকভাবে। শুধু এই ছবিই তার একমাত্র প্রমাণ নয়। রামমন্দির উদ্বোধন থেকে শুরু করে নতুন সংসদভবন উদ্বোধনের সময়ে ধারের কাছে কোথাও দেখা যায়নি রাষ্ট্রপতিকে।
FACT CHECK
২০২৪ সালের মার্চ মাসে লালকৃষ্ণ আদাবানীকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, আর্যাবর্তে আজ বিজেপির যে-রমরমা, সাড়ে তিনদশক আগে তার ভিত তৈরি করেছিলেন আদবানীই। মোদী-শাহের জমানায় তাঁকে মার্গ দর্শক করে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। এমতাবস্থায়, আদাবানীকে ভারতরত্ন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ, নরেন্দ্র মোদীর 'ভেরিফায়েড' ইউটিউব চ্যানেলে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। আদাবানীর বয়স ও অবদানকে সম্মান দিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়েই ভারতরত্ন পুরস্কার দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আদবানীর পাশেই দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। এবং, রাষ্ট্রপতি তখন দাঁড়িয়ে থাকেন ঠিকই, তবে তার কারণ অন্য। ভারতরত্ন প্রদানের রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে থেকে প্রাপকের পুরস্কার তুলে দেন। তারপর আদবানীকে হাতজোড় করে নমস্কার করে বসে পড়েন রাষ্ট্রপতি।
FACT CHECK-করে দেখা গিয়েছে, খণ্ড মুহূর্তের একটি স্থিরচিত্র দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর প্রধানমন্ত্রী বসে। কিন্তু, সামগ্রিকভাবে দেখলে বিষয়টি আদৌ তা নয়। রাষ্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী ভারতরত্ন প্রাপকের হাতে এভাবেই পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এবং তারপর বসে পড়েন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন, খণ্ডিত সত্য কি আদৌ সামগ্রিক সত্যকে তুলে ধরে?
যদিও রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বর্ষীয়ান রাজনীতিক লালকৃষ্ণ আদবানী না-হয় তাঁর বয়সের কারণে বসে রয়েছেন। কিন্তু, রাষ্ট্রপতি যখন দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন, তখন চেয়ারে বসে না-থেকে, ক্ষণিকের তরে নরেন্দ্র মোদী কি উঠে দাঁড়াতে পারতেন না? প্রোটোকল ভেঙে অথবা মেনে?