অবশেষে জল্পনার অবসান। বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৫৫ বছর পর জেলার কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসলেন। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল মেদিনীপুর। আগামীকাল ...
অবশেষে জল্পনার অবসান। বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৫৫ বছর পর জেলার কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসলেন। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল মেদিনীপুর। আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি।
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। একাধিক মহলের দাবি ছিল, তাঁকেই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এমতাবস্থায় শুক্রবার বিকেলে সমস্ত জল্পনার অবসান করে বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।
তবে যে কথা না বললেই নয়, তা হল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর এমন রাজনৈতিক লড়াই কার্যত বিরল। দল পরিবর্তন করে প্রথমে বিরোধী দলনেতা, তারপর সেখান থেকে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সোজা মুখ্যমন্ত্রীর আসন। এই গোটা পথ সহজ ছিল না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সেখানেও জিতলেন তিনি। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী শিরোপা যে পাকা হয়েই ছিল তা বলাই বাহুল্য।