ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, “বাংলায় এবার বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, এফডিআই আসবে”।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এফডিআই (FDI) ফরেন ডিরেস্ট ইনভেস্টমেন্ট-এর কথা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবক্ষকরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মুখেও শোনা যায় বিদেশি বিনিয়োগের কথা।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বণিকসভার বাণিজ্য সম্মেলন সেরে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলায় প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়েছে শিল্প ও বাণিজ্য মহল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের আত্মপ্রত্যয়ী মন্তব্য, ‘‘বেঙ্গল ইজ ব্যাক উইথ এ ব্যাং।” অন্যদিকে, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় দাবি করেছেন, শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলের ৪২ জন রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই পরিস্থিতিতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রাজ্যে শিল্প সম্মেলন হতে চলেছে বলে নবান্ন-সূত্রে খবর।
পর্যবেক্ষকরা মনে করাচ্ছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় প্রতি বছর ঘটা করে বিজিবিএস বা শিল্প সম্মেলন হত ঠিকই। কিন্তু, সেখানে কোটি-কোটি টাকা ভার্চুয়াল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যেত না।
চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে। প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই খাতে ২০ হাজার কোটির বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল শেষের দিকে। নবান্ন-সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বরের শিল্প সম্মেলনে জোর দেওয়া হবে মাঝারি শিল্পের উপর। যাতে করে কর্মসংস্থান বাড়ে। ওই সময়েই, বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে খরচ করা হতে পারে ৫ হাজার কোটি।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বাংলায় একটিও ভারি শিল্প আনতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। বছর-বছর বিজিবিএস-এর নামে মোচ্ছব চলত ঠিকই। তবে, ব্যবসায়ীরা শিল্পপতিরা সেখানে শুধুই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, মানুষ কিন্তু কলকারখানা হতে দেখেননি। কর্মসংস্থানও হয়নি সেভাবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, শিল্পপতিদের দিয়ে বাংলায় বিনিয়োগ করানো। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “নন্দীগ্রামের মতো গুলি না-চালিয়েও শিল্প আনা যায়”। সম্প্রতি বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানান, “কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে দাঁড় করাবে বাংলাকে। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না-চালিয়েও শিল্প আনা যাবে। মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দিতে এগিয়ে আসছে। রাজ্যে বড় শিল্প গড়তে তাই জমি অধিগ্রহণ কোনও সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না। রাজ্যে শিল্প হবে। আর সেই শিল্প কর্মসংস্থানমুখী হবে। ফের টাটাকে রাজ্যে নিয়ে আসা হবে”।
প্রসঙ্গত রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, টাটা-রা ফের আসবে। সিঙ্গুরে হোক বা রাজ্যের অন্য কোথাও। পর্যবেক্ষকরা মনে করাচ্ছেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তোলেন। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে এবং শিল্প-বান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।
রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করেছেন: সিঙ্গল-উইনডো, ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফ্রেমওয়ার্ক, আরবান ল্যান্ড সিলিং আইন পরিবর্তন, ল্যান্ডব্যাঙ্ক।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নিশ্চিত করেছে, সিন্ডিকেট আর তোলাবাজির সমস্যার মুখে পড়তে হবে না শিল্পপতিদের।