বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এক-এক করে অভিযোগ সামনে আসে। মানুষ সাহস করে এগিয়ে আসে। থানায় লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ঘাসফুল শিবিরের কয়েক...
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এক-এক করে অভিযোগ সামনে আসে। মানুষ সাহস করে এগিয়ে আসে। থানায় লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ঘাসফুল শিবিরের কয়েকডজন নেতার ঠাঁই হয় শ্রীঘরে।
এমতাবস্থায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দারাও সাহস করে এগিয়ে আসেন। এবং, ‘সেবাশ্রয়’ নামক স্বাস্থ্যশিবির নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, সাংসদ আয়োজিত ওই স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসক হিসেবে যাঁরা রোগী দেখেছিলেন, তাঁরা আদৌ চিকিৎসক হওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন কি? সবাই কি প্রশিক্ষিত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক? চিকিৎসকের ভূমিকায় যাঁদের দেখা গেছে, তাঁরা আদৌ চিকিৎসক কি?
এই বিতর্কের মাঝেই এগিয়ে আসেন মালতী বিশ্বাস নামে এক প্রৌঢ়া। মালতীর অভিযোগ, পায়ের ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয়-শিবিরে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসকরা কিছু পরামর্শ দেন ও সেই মতো প্রেসক্রিপশন করা হয়। এরপরই মালতীর পায়ের ব্যথা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা বলেন, ভুল চিকিৎসায় এই হাল হয়েছে। শেষ অবধি পায়ের অপারেশন করতে হয়। ওই অপারেশনে পা-বাদ যায়!
ইতিমধ্যেই মালতী বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। শুধু তা-ই নয়। প্রৌঢ়া মালতী বিশ্বাসকে স্বাস্থ্যভবনে আসার অনুরোধ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এদিন চিকিৎসার নথিপত্র নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হন ডায়মন্ডহারবারের ওউই প্রৌঢ়া। সেবাশ্রয় শিবিরে ঠিক কী ধরনের ভুল চিকিৎসা হয়েছিল, তা প্রাথমিকভাবে যাচাই করেন খোদ মন্ত্রী। তারপর তিনি জানান, মালতীর চিকিৎসায় কোথায় কী ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়েছে, তা তদন্ত করবে স্বাস্থ্যভবন।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সেবাশ্রয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্তে মালতী বিশ্বাস জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে উঠতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এবং, যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিও অ্যাটাচ করে দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, বিধায়কদের সই জাল থেকে শুরু করে ডিজে-হুমকি, একের-পর-এক মামলায় চক্রব্যুহ তৈরি করে অভিষেককে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এবং, সবকটি মামলাতেই যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ধোপে টিকবে না। এর উপর যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হয় অভিষেককে, তাহলে ‘কালীঘাটের কাকু’ কোন অভিষেকের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এমতাবস্থায়, মালতী বিশ্বাস কি কফিনে শেষ পেরেক পুঁতলেন?