মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাওয়াই চটি আর নীল পাড় দেওয়া সাদা শাড়ির অনুপ্রেরণায় রাজ্যের সরকারি রং হয়ে উঠেছিল নীলসাদা। যা নিয়ে বিতর্ক কিছু কম হয়নি ঠিকই। কিন্তু, শ্মশান থেকে শৌচালয়, সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের ছবি ও নীলসাদা-'অনুপ্রেরণা' কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিল।
টানা ১৫ বছর ধরে ‘নীলসাদা’র ‘অনুপ্রেরণা’ সহ্য করার পর যখন বাংলায় পালাবদল হল, তখন প্রশ্ন উঠল, এবার কি তাহলে সরকারি রং গেরুয়া?
বিতর্ক উস্কে দিল অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের নিরাপত্তা-কক্ষ বা সিকিউরিটি রুম। অতি সম্প্রতি নাট্যজগতের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, অভিনেতা, দর্শকরা আচমকাই দেখেন যে, ওই ঘরটির রং গেরুয়া করা হয়েছে। এবং, তার সামনে ভারতমাতার প্রতিকৃতি। এমতাবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, বাংলার সংস্কৃতি জগতের গেরুয়াকরণ শুরু হল কি?
নাট্যব্যক্তিত্বরা এর প্রতিবাদে জমায়েত করেন অ্যাকাডেমি চত্বরে। এবং, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে জানানো হবে পুরো বিষয়টি। এমতাবস্থায়, পুরো বিষয়টি শমীকের গোচরে আসে। এবং, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সংস্কৃতি বাংলায় চলবে না। অতি উৎসাহী হয়ে কেউ এই কাজ করে থাকতে পারেন ঠিকই। তবে, দল কোনওভাবে তাতে অনুমোদন দেয় না।
এখানেই শেষ নয়। শমীকের কথায়, “এমন কাজ করলে লোকে এবার আমাদের মাথায় ডিম ছুড়বে”। এবং, স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির সংযোজন, “আমার বয়স হয়েছে, মাথার চুল পাতলা হয়েছে, ডিম খেতে রাজি নই”।
রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে চিঠিটি লেখেন প্রবাদপ্রতিম নাট্যকাররা। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অরুণ মুখোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী, অশোক মুখোপাধ্যায়। নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য নিয়মিত নাটক দেখতে আসেন। তিনি সংস্কৃতি-মনস্ক ও নাট্যপ্রেমী। তাই তাঁকেই আর্জি জানিয়েছিলাম”।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দেয়, শিল্প-সংস্কৃতি মহলে সরকার খবরদারি করবে না। তৃণমূল জমানায় ইন্দ্রনীল সেন যা করেছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি হবে না। এমতাবস্থায়, অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে গেরুয়া রং নিয়ে যে-বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি, তা হল, দলের রং গেরুয়া বলেই সর্বত্র গেরুয়াকরণ বরদাস্ত করা হবে না।