বাংলার আমের ঐতিহ্যকে আরও বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই নিউটনের জৈব হাটে আয়োজিত হল পশ্চিমবঙ্গ আম উৎসব। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষক, আম ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলা, ...
বাংলার আমের ঐতিহ্যকে আরও বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই নিউটনের জৈব হাটে আয়োজিত হল পশ্চিমবঙ্গ আম উৎসব। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষক, আম ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলা, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমে এবং উৎপাদক ন্যায্য মূল্য পান। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী। তিনি জানান, বাংলার আমকে শুধু দেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে রাজ্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আম রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিপণন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল, ক্রেতারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির আম কিনতে পেরেছেন। এর ফলে যেমন কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, তেমনই ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে টাটকা ও মানসম্মত আম সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন।
শুধু বাংলার ঐতিহ্যবাহী আম নয়, বর্তমানে বিদেশে জনপ্রিয় একাধিক প্রজাতির আমও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফলভাবে চাষ হচ্ছে। সেই সব বিদেশি প্রজাতির আমও এই উৎসবে প্রদর্শিত ও বিক্রি করা হয়। ফলে বিদেশি আমের স্বাদ নিতে আর আমদানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না; বাংলার মাটিতেই উৎপাদিত সেই প্রজাতির আম সহজলভ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।
মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তীর বক্তব্য, কৃষি শুধু উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উৎপাদনের সঙ্গে আধুনিক বিপণন, মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি করাই আগামী দিনের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই আম চাষ ও আম-ভিত্তিক শিল্পকে আরও প্রসারিত করতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কৃষক-ক্রেতা সংযোগমূলক উদ্যোগ একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে বাংলার আমকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথও আরও সুগম করবে। আম উৎসব তাই শুধু একটি ফলের মেলা নয়, বরং কৃষি, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের কৃষি অর্থনীতির এক নতুন দিশা।