মিষ্টির দোকান মানেই বাঙালির আবেগ। কিন্তু সেই মিষ্টির দোকানেই যদি ফুড লাইসেন্স না থাকে, কিংবা ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতার নিয়মও না মানা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে। এবার এমনই অভিযোগ...
মিষ্টির দোকান মানেই বাঙালির আবেগ। কিন্তু সেই মিষ্টির দোকানেই যদি ফুড লাইসেন্স না থাকে, কিংবা ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতার নিয়মও না মানা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে। এবার এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাবড়ায় একের পর এক মিষ্টির দোকানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, হাবড়া পৌরসভা এবং হাবড়া থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোথাও ফুড লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম, আবার কোথাও পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযানের শুরুতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় নিউ মা মনসা সুইটস। অভিযোগ, দোকানের স্টোররুমের অবস্থা ছিল অপরিষ্কার। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকের দাবি, সেখানে ধুলো জমে ছিল এবং খাদ্য সংরক্ষণের জায়গায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি পাওয়া যায়। দোকান কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ স্টোররুম পরিষ্কার করে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল বলে জানা যায়।
কিন্তু ঘটনার পরের দিনই দোকান ফের খুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। লাইসেন্স সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর কীভাবে পরের দিনই দোকান খুলল? এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় চাপানউতোর। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানটি ফের বন্ধ করে দেয় বলে জানা গিয়েছে। শুধু একটি দোকানেই থেমে থাকেনি অভিযান। দত্তকুকুর এলাকায় মা মনসা সুইটসের আরও একটি শাখার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইতিমধ্যে হাবড়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
তবে গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। হাবড়ার মতো শহরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা একাধিক মিষ্টির দোকানে যদি ফুড লাইসেন্স এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এতদিন ধরে নজরদারি কোথায় ছিল? খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যবসায় পরিচ্ছন্নতা, সঠিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণ এবং বৈধ লাইসেন্স থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের এই অভিযান যেমন নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছে, তেমনই সামনে নিয়ে আসছে আরও একটি প্রশ্ন, এতদিন কি নিয়মিতভাবে এই দোকানগুলিতে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত পরিদর্শন হচ্ছিল? নাকি অনিয়ম চোখের আড়ালেই থেকে গিয়েছিল?
হাবড়ার মিষ্টির দোকানগুলিতে সাম্প্রতিক এই অভিযান তাই শুধুমাত্র কয়েকটি দোকান বন্ধ করার ঘটনা নয়। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে খাদ্য সুরক্ষা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন নজর, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, বন্ধ হওয়া দোকানগুলি নিয়ম মেনে কবে ফের খুলতে পারবে এবং হাবড়ার অন্যান্য মিষ্টির দোকানেও কি একই ধরনের অভিযান চালানো হবে?