একদিকে ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। এর বাইরে, খসড়া তালিকার ৫৮ লক্ষ নাম ধরলে মোট ৬৩ লক্ষের ভোট-ভাগ্য কার্যত বাদের খাতায়। এমতাবস্থায়, বিজেপি ও কমিশনকে একইসঙ্গে বিঁধে শুক্রবার থেকে ধর্...
একদিকে ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। এর বাইরে, খসড়া তালিকার ৫৮ লক্ষ নাম ধরলে মোট ৬৩ লক্ষের ভোট-ভাগ্য কার্যত বাদের খাতায়। এমতাবস্থায়, বিজেপি ও কমিশনকে একইসঙ্গে বিঁধে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধরনার দ্বিতীয় দিনে ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, "তেমন হলে কেন্দ্রীয় সরকারকেই ফেলে দেবো"।
পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন, লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মোদী সরকারকে ফেলে দেওয়ার পক্ষে তা কি যথেষ্ট? রাজধানীর রাজনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিচ্ছে, চব্বিশের লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় বিজেপি। এবং সরকার গড়তে অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নাইডু ও বিহারের নীতীশ কুমারের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। এদিন ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মমতাকে বলতে শোনা যায়, চন্দ্রবাবু নাইডুর সমর্থনে টিমটিম করে চলছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নীতীশ কুমার জেডিইউ এবং চন্দ্রবাবুর টিডিপি-র মধ্যে কেউ যদি সমর্থন তুলে নেয়, তাহলে মোদী সরকারকে আস্থাভোটে যেতে হবে। এবং এডিএ-র বাইরে জোটসঙ্গি খুঁজতে হবে। এমতাবস্থায়, তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ মহার্ঘ্য হয়ে উঠবেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের কাছে। এদিন এই সহজ পাটিগণিতের অঙ্ক কষে মোদী সরকারকে মনে করিয়ে দিলেন, আস্থাভোট হলে মোদী সরকারকে সমর্থন করবেন না তৃণমূল সাংসদরা।
প্রসঙ্গত, প্রথমে বিজেপি বিরোধী ইউপিএ জোট ও পরে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রতিনিধ হয়েও কিন্তু, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের সময়ে তৃণমূল সাংসদরা ভোটদানে বিরত থেকে মোদী সরকারের সুবিধা করে দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এমতাবস্থায়, কোনও জরুরি বিল পাশ বা জোট শরিকদের কেউ ছেড়ে চলে গেলে তৃণমূলের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না নরেন্দ্র মোদীর কাছে, সেই কথাই মনে করিয়ে দিলেন মমতা।