বাংলায় এসআইআর-পর্ব শুরু হওয়া থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ অবধি 'আতঙ্কে মৃত্যু ' মৃত্যু অব্যাহত। কখনও ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না সেই আশঙ্কায় ভোটারের, কখনও-বা কাজের চাপ নিতে না-পারার মানসিক চাপ বিএল...
বাংলায় এসআইআর-পর্ব শুরু হওয়া থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ অবধি 'আতঙ্কে মৃত্যু ' মৃত্যু অব্যাহত। কখনও ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না সেই আশঙ্কায় ভোটারের, কখনও-বা কাজের চাপ নিতে না-পারার মানসিক চাপ বিএলও-র, সবমিলিয়ে 'আতঙ্কে মৃত্যু ' অব্যাহত।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছেন। চিঠি লিখেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে সরব হয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। এমতাবস্থায়, বহু বিতর্ক ও বহু প্রশ্ন সঙ্গে নিয়েই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবং তারপরও অব্যাহত 'আতঙ্কে মৃত্যু '।
দোলের দিন সকালে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় এক মোমো বিক্রেতার দেহ উদ্ধার হল তাঁর ঘর থেকে। নাম গৌরাঙ্গ দে। পরিবারের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না-থাকায় আশঙ্কায় ছিলেন, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না তো? এবং সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মহত্যা। খবর পেয়ে নয়াবস্তির এসআইসি কোয়াটার্সে ছুটে যান জলপাউগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, "এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জালিয়ানওয়ালাবাগে একটি গণহত্যা হয়েছিল। এসআইআর দ্বিতীয় জালিয়ানওয়ালাবাগ। গৌরাঙ্গ দে-র বয়স ৬২ বছর। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি ভোট দিচ্ছেন। কী করে তাঁর নাম বাদ দেয় কমিশন"?
দোলের দিন সকালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এই প্রৌঢ়ার দেহ উদ্ধার হয়। মোমো বিক্রি করে সংসার চালাতেন স্বামী-স্ত্রী মিলে। স্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন তাঁর স্বামী, তালিকায় নাম ওঠেনি। দোলের দিন সকালে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।