ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, রাজ্যের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এবং, ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। চৌঠা মে ফল ঘোষণার পর যখন রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় ওঠে, তখন ক...
ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, রাজ্যের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এবং, ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। চৌঠা মে ফল ঘোষণার পর যখন রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় ওঠে, তখন কিন্তু তৃণমূলের মতো প্রতিহিংসার পথে হাঁটেনি বিজেপি। দলের রাজ্যসভাপতি বারংবার বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোনওরকম রাজনৈতিক হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, দলের বিজয়ী বিধায়করা বার্তা দিয়েছেন, কেউ অশান্তির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে গ্রেফতার হলে তাঁর দায়িত্ব নেবে না দল।
এমতাবস্থায়, দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে যখন তৃণমূলের প্রাক্তন ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হন একে-একে, তখন তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয়। পুলিসের গাড়ি থেকে নেমে আদালতে যাওয়ার পথে এবং আদালত কক্ষ থেকে ফেরার পথে তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করাচ্ছেন, নিজের লোকসভা কেন্দ্রে দলের এক কর্মীর পরিবারে যাওয়ার পথে প্রবল ডিম-বর্ষণের শিকার হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, তারপর থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথ হয়ে ওঠে এই ‘ডিম থেরাপি’।
এই ডিম ছোড়ার ক্রমশ নৈরাজ্যে আকার নেয়। বামনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া হয়। ওই ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
অবশেষে প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে থানাস্তরে বার্তা আসে, অবিলম্বে এই ‘ডিম থেরাপি’ বন্ধ করতে হবে। জেলার পুলিস সুপার ও কমিশনারেট এলাকায় পুলিস কমিশনারদের কাছে নির্দেশ আসে, এই ডিম ছোড়ার ঘটনায় রাশ টানতে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টও এই ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ করতে পুলিস প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়।