ছাব্বিশের বিধানসভার আবহে ক্যামাক স্ট্রিটে নিজের দফতরে দলের সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়ম করে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে, আলিপুরদু...
ছাব্বিশের বিধানসভার আবহে ক্যামাক স্ট্রিটে নিজের দফতরে দলের সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়ম করে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে, আলিপুরদুয়ারে ঘাসফুল শিবিরের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত চূড়ান্ত আকার নিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক ও অঞ্চল স্তরে সাংগঠনিক রদবদলে আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল চরমে পৌঁছেছে। মাদারিহাট থেকে কুমারগ্রাম, আলিপুরদুয়ার দুই নম্বর ব্লক থেকে আলিপুরদুয়ার এক নম্বর ব্লক, প্রায় সব জায়গাতেই গোষ্ঠী কোন্দল প্রকট হয়েছে। এর জেরে শুরু হয়েছে গণ পদত্যাগ। ইতিমধ্যেই কুমারগ্রাম ব্লকে ভলকা- ১ নম্বর অঞ্চলের প্রায় পনেরো জন বুথ সভাপতি-সহ অঞ্চল চেয়ারম্যান পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন ব্লক সভাপতির কাছে। এর পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকেও দলের ৯ জন পদাধিকারী বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। জেলাজুড়ে এই গোষ্ঠীকোন্দলে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকশিবির। আলিপুরদুয়ার জেলার দু-নম্বর ব্লকে তৃণমূলের আদি ও নব্যর মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট আকার নিয়েছে। জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার -২ ব্লক কমিটির বিভিন্ন পদ থেকে গণহারে ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ব্লক কমিটির সহ সভাপতি, সম্পাদক, অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান- সহ একাধিক পদ থেকে মোট ৯ জন ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁরা সবাই ইস্তফাপত্র ব্লক সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মহাকালগুড়িতে তৃণমূল নেতা দেবজিৎ সরকার জানান, "আমরা মোট ৯ জন ইস্তফা দিয়েছি। আমি নিজে ব্লক কমিটি সহসভাপতি ছিলাম। বিভিন্ন অঞ্চলে যোগ্য নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও এমন কিছু লোককে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের জন্য আগামী নির্বাচনে দলের ফল ভালো হবে না। এর প্রতিবাদে আমরা ইস্তফা দিয়েছি পদ থেকে। তবে দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে আছি"।
শুধু দেবজিৎ সরকার নন। আরও এক তৃণমূল নেতা কাজল দত্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "দলের ভেতরে বিভিন্ন গ্ৰুপবাজি চলছে। তার প্রতিবাদে আমরা পদত্যাগ করছি। আমরাই এখানে দলকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি। কিন্তু দলে আমাদের আর সম্মান নেই। পুরনো সভাপতি কলকাঠি নাড়ছেন নতুন সভাপতিকে দিয়ে"।
দলের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মে আইপ্যাক নাক গলাচ্ছে বলে দাবি করে তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন গত কয়েকবছরে। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এখানেও সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেলো। এদিকে আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকে সব পদ উপজাতিদের দেওয়া হয়েছে বলেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের অভ্যন্তরে।
যদিও জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গা প্রসাদ শর্মা বিষয়টিকে গুরুত্ব না-দিয়ে শুধু বলেন, "সাংগঠনিক বিষয়ে আমরা দলের মধ্যে কথা বলে নেবো"।
এই পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরকে কটাক্ষ করে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, "তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসলে 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানে'র জন্য যে রোজগারের রাস্তা তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এতদিন পদে থাকা নেতাদের। তাই এই পদত্যাগের হিড়িক"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই গোষ্ঠী কোন্দলে আখেরে লাভ হবে বিজেপির। এমনিতেই বিজেপির ভোটভিত্তি এখানে যথেষ্ট ভালো। এবার 'উত্তর' পুনরুদ্ধারের যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, তা মাঠে মারা গেলো।