কলকাতা হুজুগের। কলকাতা রাজনীতিরও। বিধানসভা ভোটের মুখে প্রথমটিতে খানিক রাশ টেনে সম্ভবত দ্বিতীয়টির দিকে মন দিয়েছে মহানগর। নইলে কি আর শুনশান গড়িয়াহাট চত্বর আর তার লাগোয়া পাড়ায় লাল-সবুজ-গেরুয়ার বদলে শুধুই জলপাই রঙের রুটমার্চ?
ভোট কবে শুরু হবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমনকি, ভোটের নির্ঘণ্ট কবে ঘোষণা হবে তা নিয়েও ঘোর সংশয়। এমতাবস্থায়, নজিরবিহীনভাবে মার্চ মাস শুরু হতে-না-হতেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকে পড়েছে। কথা ছিল, চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে দু-দফায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। পরে সেই পরিকল্পনা কিঞ্চিৎ বদল করে জানানো হয়, প্রথম ৭ দিনের মধ্যেই প্রায় ৫০০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যের দখল নেবে এবং এলাকায়-এলাকায় রুটমার্চ করবে। এমতাবস্থায়, ইতিমধ্যেই প্রথম দফার বাহিনী রাজ্যে এসে গিয়েছে এবং কলকাতা থেকে শুরু করে জেলাসদর, পৌরসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত, প্রায় সর্বত্র রুটমার্চ শুরু করে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দোলের সকালে রং-বেরঙের আবিরের বদলে জলপাইরঙের কেন্দ্রীয় বাহিনী খাস গড়িয়াহাটের মতো এলাকায় রুটমার্চ করছে, সাম্প্রতিক অতীতে এমন ঘটনার কোনও নজির নেই।
কোথায় কত বাহিনী?
৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে থাকছে সিআরপিএফ ২৩০ কোম্পানি, বিএসএফ ১২০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ৩৭ কোম্পানি, আইটিবিপি ৪৭ কোম্পানি ও এসএসবি ৪৬ কোম্পানি।
প্রথম দফায়, জেলা ও পুলিস জেলা মিলিয়ে, দার্জিলিঙে ৬ কোম্পানি, শিলিগুড়িতে ৩, কালিম্পঙে ৩, কোচবিহারে ৯, আলিপুরদুয়ারে ৫, জলপাইগুড়িতে ৭, ইসলামপুরে ৫, রায়গঞ্জে ৬, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০, মালদহে ১২, মুর্শিদাবাদে ৮, জঙ্গিপুরে ৮, কৃষ্ণনগরে ৬, রানাঘাটে ৬, হাওড়ায় ৭, হাওড়া (গ্রামীণ)-এ ৮, হুগলি (গ্রামীণ)-এ ৬, চন্দননগরে ৮, কলকাতায় ১২, বারাসতে ৬, বনগাঁয় ৬, বসিরহাটে ৭, ব্যারাকপুরে ৯, বিধাননগরে ৪, বারুইপুরে ৫, ডায়মন্ড হারবারে ৬, সুন্দরবনে ৪, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৪, পূর্ব বর্ধমানে ৮, এডিপিসি (আসানসোল-দুর্গাপুর)-এ ৭, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭, ঝাড়গ্রামে ৫, বাঁকুড়ায় ৭, পুরুলিয়ায় ৫, বীরভূমে ৭ কোম্পানি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবার গোড়া থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা চলবে না। এমনকি, রাজ্য প্রশাসন যাতে বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখতে না-পারে, স্পর্শকাতার এলাকার বদলে শান্তিপূর্ণ এলাকায় গাইড করে নিয়ে যেতে না-পারে, জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার নজরদারি চলবে।